তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় রাতের অন্ধকারে কাপুরুষের মত জনগণের ভোট কেটে ব্যালট বাক্স ভরে রাখে তারা কতটুকু সাহসী তা দেশের জনগণ জানে। আপনাদের যদি সৎ সাহস থাকে তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্বাচন দিন।
বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
‘সৎ সাহস থাকলে তারেক রহমান দেশে ফিরতেন।’-তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এমন বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, যারা রাতের অন্ধকারে কাপুরুষের মতো ভোট করে তারা কতটুকু সাহসী তা জনগণই জানে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আইনগতভাবে জামিনে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন। এখনও তিনি সুস্থ নন, তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসল ওয়ান-ইলেভেনের সরকার তারেক রহমানকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। সেই নির্যাতনেই তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। এই ধরণের বর্বরোচিত নির্যাতন চালানোর পরও শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা প্রশমিত হয়নি। তারেক রহমান লন্ডনে থাকার পরও তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা ও সাজা দেয়া হয়েছে। ন্যায় বিচার করার জন্য বিচারককে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এটিতেই সুষ্পষ্টভাবে প্রমানিত হয় যে, দেশে ন্যায় বিচার নয়, আওয়ামী বিচারই শেষ কথা।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই মিডনাইট সরকার খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করে প্যারোল দেয়ার জন্য পাগল হয়ে গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্যারোল চায় না, নিঃশর্ত মুক্তি চায়।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিপুল জনপ্রিয়তায় সরকার ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে আবারো হেয় প্রতিপন্ন করার চক্রান্ত করছে। সরকারি লোকদের অর্থে পরিচালিত একটি টিভি চ্যানেল ও মিথ্যাচারে নিয়োজিত কিছু হলুদ সাংবাদিক খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কাল্পনিক রচনা প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ফাতেমার মা বলেছেন তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এধরণের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
