২০১৪ বিশ্বকাপ মাতিয়ে দিয়েছিল রবিন ফন পার্সির ‘ফ্লাইং’ গোল। শূন্যে ভেসে হেড থেকে স্পেনের বিপক্ষে গোলটি করেছিলেন নেদারল্যান্ডস তারকা। বুধবার রাতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও অনেকটা সেরকমই গোল করলেন। আয়াক্স আমস্টারডামের মাঠে অসাধারণ সেই গোলটি জুভেন্তাসকে হারের মুখ থেকে ফেরাল। উজ্জীবিত ডাচ জায়ান্টদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করেছে ইতালি জায়ান্টরা। এদিনের গোলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি ১২৫-এ নিয়ে গেলেন পর্তুগিজ তারকা। এই টুর্নামেন্টে প্রথম ফুটবলার হিসেবে এত গোল করলেন পাঁচবারের বর্ষসেরা তারকা। শেষ ষোলোর পর টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জুভেন্তাসকে বাঁচালেন রোনালদো।
এদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েও পারল না বার্সেলোনাকে থামাতে। অফফর্মে ছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। লিওনেল মেসিও অফফর্মে। এই সুযোগও নিতে পারেনি ম্যানইউ। লুইস সুয়ারেজের হেড থেকে বল ম্যানইউর লুক শ’র গায়ে লেগে জালে জড়ায়। ১২ মিনিটে আত্মঘাতীর এ গোলেই ম্যাচের ফলাফল হয়। প্রথম লেগ ১-০ গোলে জেতায় ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনাই ফেভারিট। এদিকে স্থায়ী কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ওলে গানার সোলসকায়ের তিন ম্যাচের দুটিতেই হারলেন। দলও টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায়।
২০০৩-এ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেক হয়েছিল রোনালদোর। কিন্তু প্রথম গোল পেতে অপেক্ষায় থেকেছেন ২০০৭ পর্যন্ত। এরপর ১৬১ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে ১২৫ গোলের রেকর্ড করেছেন। এই টুর্নামেন্টে রোনালদোর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মেসির গোল ১০৮টি। ২০১১-১২ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত প্রতি মৌসুমেই ১০ বা তার বেশি গোল করেছেন পর্তুগিজ তারকা। চলতি মৌসুমে এরই মধ্যে করে ফেলেছেন ৮ গোল।
আয়াক্সের মাঠে গতকাল ৪৫ মিনিটে হুয়াও কানসেলোর ভাসানো বল অনেকটা দূরে ছিল রোনালদোর। কিন্তু চতুরতার সঙ্গে ডাইভ দিয়ে হেড করেন। সেটা এতই ‘পারফেক্ট’ ছিল যে, সামনে দাঁড়ানো আয়াক্স গোলকিপার হাত ছুঁয়েও ফেরাতে পারেননি। বিরতির পরপরই স্বাগতিকদের ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ডেভিড নেরেসের চোখধাঁধানো স্ট্রাইকে ম্যাচে ফেরে আয়াক্স।
দ্বিতীয়ার্ধে আয়াক্সের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। আর
জুভেন্তাসের ডগলাস কস্তার শট বারে লেগে ফিরে আসে। তাই সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মেসিকে আটকে রাখতে সফল হয় ম্যানইউ। তবুও আসল সাফল্যটা পেল না তারা। হারের ব্যবধান এক গোলের বেশি হতো ডেভিড ডি গিয়া স্বরূপে না দাঁড়ালে। দুটি নিশ্চিত গোল ফিরিয়েছেন ম্যানইউ স্প্যানিশ গোলকিপার। তবে ইংলিশ জায়ান্টদের আসল পরীক্ষা হবে বার্সার মাঠে। শেষ ষোলোতে পিএসজিকে হারানোর মতো কিছু ঘটানো এবার সহজ হবে না ম্যানইউর জন্য।
