রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপব্যবহার বন্ধে দেশটির প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়েছে সাবেক বর্ষীয়ান সেনাসদস্যরা। ভারতের ইতিহাসে এর আগে কখনো সাবেক সেনা সদস্যরা লিখিতভাবে প্রেসিডেন্টকে কোনো বিষয়ে চিঠি দেয়নি বলে জানায় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
প্রেসিডেন্টকে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেন দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে রয়েছেন আটজন সাবেক সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনী প্রধান। তাদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘সেনাবাহিনীকে, এর উর্দি এবং সেনা তৎপরতাকে কোনো পার্টিই যাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য অবিলম্বে জরুরি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’
তবে ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এফ রড্রিগজ বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, ‘রাষ্ট্রপতি ভবনে পাঠানো চিঠিতে কী লেখা আছে সে ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। সারা জীবন আমি অরাজনৈতিক থেকে গেছি। ৪২ বছর বাহিনীতে থাকার পর খুব অল্প সুযোগই আছে পালটে যাওয়ার। আমরা সব সময় ভারতকে এগিয়ে রাখি।’ একই কথা বলেছেন সাবেক এয়ার চিফ মার্শাল এন সি সুরি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চিঠিটি নির্বাচন কমিশন প্রধানকেও পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সেনাবাহিনীর অসাম্প্রদায়িক এবং অরাজনৈতিক চরিত্র বজায় রাখতেও আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া চিঠিতে সেনাবাহিনীর অর্জিত সফলাতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ ছিনতাই করেছেন, এমনটাও বলা হয়। সম্প্রতি এক র্যালিতে আদিত্যনাথ বলেছিলেন, মোদির সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের শত্রুদের ধ্বংস করছে। চিঠিতে বর্ষীয়ান কর্মকর্তারা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সেনাবাহিনীকে এভাবে পরিচয় করিয়ে না দিতেও আহ্বান জানান। কারণ হিসেবে বলা হয়, সেনাবাহিনী ভারতের এবং দেশের জনগণকে রক্ষা করাই এর কাজ। কোনো মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর হয়ে সেনাবাহিনী কাজ করে না।
এর আগে অ্যাডমিরাল এল রামদাস নির্বাচন কমিশনের কাছে ভারতীয় জনতা পার্টির সেনাবাহিনীর অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন।
