গুরুত্বপূর্ণ ছবি। প্রয়োজনীয় ফাইল। একদিন ঘুম ভেঙে দেখলেন কম্পিউটারে দুটোর কিছুই নেই! হার্ড ড্রাইভ ক্রাশড। পরিণামে আপনি নিঃস্ব। এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না চাইলে নিয়মিত আপনার কম্পিউটারের বিভিন্ন তথ্যের ব্যাকআপ রাখা উচিত। অনেকে বলে থাকেন প্রতিদিন ব্যাকআপ দেওয়া উচিত। আবার কেউ কেউ বলেন সপ্তাহে অন্তত একবার। আপনি সপ্তাহে কতবার ব্যাকআপ রাখবেন, সেটি আসলে আপনার কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে। যারা ছবি তোলা পেশায় আছেন, তাদের প্রতিদিন কাজ থেকে ফিরে ক্লায়েন্টের ছবির ব্যাকআপ রাখা উচিত। কিন্তু অধিকাংশ কম্পিউটার ব্যবহারকারী আলস্যের কারণে সেটি করেন না। এই বদভ্যাস ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিপদ শুধু আপনার নয়, আপনার ক্লায়েন্টেরও। একবার চিন্তা করে দেখুন, কারও বিয়ের ছবি যদি আপনি হারিয়ে ফেলেন, তাহলে পরিণতি কী হবে!
যেভাবে রাখবেন ব্যাকআপ
প্রতিদিন ব্যাকআপ রাখা আসলেই একটি বিরক্তির কাজ। এই বিরক্তি এড়াতে আপনি অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকআপের ব্যবস্থা করতে পারেন।
এই কাজটি আপনি গুগলেই করতে পারেন। এ জন্য আপনাকে https://www.google.com/drive/download/backup-and-sync/’এই ঠিকানায় যেতে হবে। ডাউনলোড করে এতে সাইন ইন করতে হবে। এরপর যে ফোল্ডারগুলোর ব্যাকআপ রাখতে চান সেগুলো সিলেক্ট করতে হবে।
এখানে সাইন আপ করলে ডেস্কটপ পিসি ছাড়াও মোবাইল বা ট্যাবের মাধ্যমে ব্যাকআপ রাখা ফাইলগুলোতে প্রবেশ করা যাবে। টুলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার সিলেক্ট করা ফোল্ডার গুগল ড্রাইভ কিংবা গুগল ফটোস-এও আপলোড করে রাখবে। গুগল ড্রাইভে ১৫ জিবি স্টোরেজের বেশি ব্যবহার করতে গেলে বাড়তি টাকা দিতে হয়।
১০০ জিবি ব্যবহার করলে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। বছরে ১৬০০ টাকা। ২০০ জিবি মাসে ২৫০ টাকা। বছরে ২৫০০ টাকা।
এ ছাড়া আপনি ক্লাউড-ভিত্তিক অন্য ব্যাকআপও ব্যবহার করতে পারেন। এটিও ফ্রি ব্যবহার করা যায়।
ক্লাউড এমন একটি বিশেষ সার্ভিস যা বিশেষ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটার বা অন্যান্য যন্ত্রে কম্পিউটিং সার্ভিস হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
ব্যবহার করতে পারেন মেগা
‘mega.co.nz’ এই ঠিকানা থেকে মেগা অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারেন। ডেস্কটপ, মোবাইলের জন্য তাদের ভিন্ন ভিন্ন অ্যাপ রয়েছে। এখানে ৫০ জিবি তথ্য বিনামূল্যে সংরক্ষণ করা যায়। ২০১৩ সালে প্রথম চালু হয় এই পদ্ধতিটি।
এড্রাইভ
‘http:www.adrive.com’ এই ঠিকানা থেকে এ ড্রাইভে প্রবেশ করতে হবে। এখানে ৫০ জিবি পর্যন্ত তথ্য বিনামূল্যে সংরক্ষণ করার সুবিধা রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপসের পাশাপাশি ওয়েব ব্রাউজার থেকেও এ ড্রাইভে তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। ২০০৭ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে।
