ভোলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর চর ভেদুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ২০ মার্চ ঘটনা ঘটলে ভিকটিম ছাত্রী ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট লিখিত অভিযোগ দেয় এবং বিচার দাবি করে।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গবেষণা কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দীকিকে আহ্বায়ক করে প্রধান শিক্ষকসহ ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে তদন্ত না করে বিষটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে তদন্ত কমিটি।
পরে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান মিঠু ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি দফা রফা করেছেন বলে জানায় এলাকাবাসী।
ভিকটিমের মা জানান, তারা ঘটনার সাথে সাথেই লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের নিকট বিচারের দাবি জানান। এরপর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করেন প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান মিঠু।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. বায়জিত ২০০৮ সালে একই ধরনের অভিযোগে ভোলা সদর উপজেলাধীন ইলিশা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে চাকুরী হারান। প্রায় বছর খানিক পর তিনি উত্তর চর ভেদুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগের বিষয় প্রশ্ন করলে তিনি এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান মিঠুকে প্রশ্ন করলে তিনি সাংবাদিক শুনে ফোনের লাইন কেটে দেন। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত নম্বরটিতে কয়েকবার কল করলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমাদের কাম্য নয়। শিক্ষকতা মহান পেশা, যদি কেউ এই পেশার সম্মান নষ্ট করে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গবেষণা কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দীকি জানান ওই ছাত্রী অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তিনি বিষয়টি তদন্ত করার সুযোগ পাননি। ৬ লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান।
ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছগির মিঞা জানান, ঘটনার কথা শুনেছি তবে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
