রাজধানীর ডেমরায় নিহত এক বৃদ্ধ দম্পতির হত্যারহস্যের উদ্ঘাটন করতে গিয়ে ভাড়াটিয়া সেজে মালামাল লুট চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবির ডেমরা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল হাসান জানান, শুধু ডেমরায় নয়, রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ‘টু-লেট’ দেখে বাড়ি ভাড়া নেওয়ার নামে ডাকাতি করে এই চক্র।
শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ঈদগাহ মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সদস্য সীমা (৩০), লিপি (৫০), বেবী আক্তার ওরফে বকুল (৪৮), আমিরন ওরফে আমিরুন্নেছা (৪৮), মুক্তা (৩৬), কুলছুম ওরফে সাথী (২৬) ও মো. মনির হোসেন ওরফে বাবুকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানা এলাকা থেকে মোছা. তাসলিমা আক্তার মনা ওরফে ময়নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নাজমূল হাসান আরও জানান, গত ২৫ আগস্ট ডেমরা ইসমাইল ভিলার পশ্চিমে একটি বাসায় কয়েকজন নারী বাসা ভাড়া নিতে যান। তারা বাসার মালিকের সঙ্গে কথাবার্তা বলে চলে যায়। পরদিন তারা বাসা ভাড়া চূড়ান্ত করার জন্য সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে আবার যায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাসার মালিক হাজী আবদুস সাত্তার (৭০) ও তার স্ত্রী সাহেরা খাতুনকে (৬০) চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে মূল্যবান জিনিস নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। বিকেল ৫টার দিকে বাসার অন্য ভাড়াটিয়ারা অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ওই ঘটনার দুই দিন পর ২৭ আগস্ট ডেমরা থানায় মামলা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে থানা-পুলিশ মামলাটি তদন্ত শুরু করে। পরবর্তী সময়ে মামলাটির তদন্তভার ডিবির ডেমরা জোনাল টিমের কাছে ন্যস্ত হয়। তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে অবস্থান নির্ণয় করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাত্তার-সাহেরা দম্পতির হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
আসামিরা জানিয়েছে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাসার মালিক হাজী আবদুস সাত্তার ও তার স্ত্রী সাহেরা খাতুনের সঙ্গে খাতির জমিয়ে ঘুমের ওষুধ মেশানো শরবত খাইয়ে দেয়। যাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে সে জন্য বাসার মালিকের মাথায় ও দাঁড়িতে এবং তার স্ত্রীর মাথায় মেহেদি লাগিয়ে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেতন হয়ে পড়লে প্রতারকরা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
