পেকুয়ায় কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:১৭ পিএম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়ে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। লবণবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় কালভার্টটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের দক্ষিন মগনামা কাজী বাজার ও কালারপাড়া সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত দেড় মাস আগে কাজীবাজার-কালারপাড়া গ্রামীণ সড়কের আরসিসি কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়েছে।

জানা গেছে, বিধ্বস্ত কালভার্ট জরুরি ভিত্তিতে পুনঃসংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর উদ্যোগ নেয়। চলতি অর্থ বছরে এলজিইডি এর সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করতে অর্থ বরাদ্দ দেয়। সড়কের পয়েন্টে আরসিসি কালভার্ট নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করতে কার্যাদেশ আহ্বান করে। হাকিম এন্ড ব্রাদার্স নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প কাজ বাস্তাবায়ন করতে কার্যাদেশ পায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত দেড় মাস আগে কইড়াবাজার-কালারপাড়া সড়ক পয়েন্টে কালভার্ট সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করতে সড়কে মাটি খনন কাজ শুরু করে। বিধ্বস্ত কালভার্ট সংস্কারে সড়কে গর্ত করে ড্রেন করা হয়েছে। প্রায় দেড় মাস ধরে সড়কের এ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। যানবাহন চলাচল দেড় মাস ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ঠিকাদার কাজের কার্যাদেশ পেলেও সঠিক সময়ে কাজ বাস্তাবায়নে ব্যর্থ হচ্ছে। অবহেলা ও কর্তব্যবোধের অভাববোধ করছেন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ।

মগনামা কাজী বাজার এলাকার বাসিন্দা আতিক মাঝি, বাদশা মাঝি ও ছরওয়ার মাঝিসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কালভার্ট বিকল হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য থেমে গেছে। গাড়ি চলাচল নেই সড়কে। লবণ আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদ। সড়কপথে পরিবহন হয়। গত দেড় মাস ধরে লবণ বিক্রি বন্ধ থাকায় মানুষের অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।

মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র ছমি উদ্দিন, দশম শ্রেণির ছাত্র মিনহাজ সামিসহ অনেকে জানান, সড়কের মাঝখানের স্থানে ড্রেন তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগে বৃষ্টির সময় কাদা মাটিতে সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে যায়। এ সময় পায়ে হেঁটে এপার থেকে ওই পাড়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া খুবই কঠিন ছিল। প্রতিনিয়তই তারা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম বলেন, “পেকুয়ার ইউএনও ও প্রকৌশলী আমাকে কাজে সহায়তা করতে অনুরোধ করছিলেন। আমি দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের স্বার্থে কালভার্ট স্থানে ছুটে গিয়েছিলাম। ঠিকাদার মাটি খনন করে গর্ত করেছেন। অথচ কাজ বাস্তবায়ন করছেন না।

তিনি অভিযোগ করে আরও জানান, কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারের অবহেলার কারণে সাধারণ লোকজন দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্ট এর সংস্কার কাজ দ্রুতি সময়ে নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন না হলে অধিক ক্ষতি হওয়ার সম্মুখীন হবে।

এলজিইডির পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, “আমি ঠিকাদারকে বলেছি দ্রুত সময়ে কাজ শেষ করতে। চেয়ারম্যান সাহেব বিষয়টি অতি গুরুত্বের সহিত আমাকে বলেছেন। আমি অবশ্যই এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেব। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত