উপজেলা নির্বাচনে নৌকার মিছিলে যোগ দেওয়ায় বিদ্যালয় থেকে পটুয়াখালীর গলাচিপার খারিজ্জমা ইসাহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে বহিষ্কার এবং মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে এক ছাত্রকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বহিষ্কার ও মারধরের শিকার দুই ছাত্র হলো বাণিজ্য বিভাগের দশম শ্রেণির শুভ এবং দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের রেজাউল করিম।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান রেজাউলকে ছাড়পত্র, শুভকে স্কুলে আসতে নিষেধ এবং তার স্বামী ও আওয়ামী লীগ নেতা রিজভী চেীধুরী রেজাউলকে মারধর করেন বলে অভিযোগে জানা যায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গলাচিপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে খারিজ্জমা ইসাহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেজাউল মৃধাসহ একই বিদ্যালয়ের প্রায় পঁচিশ শিক্ষার্থী আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর মিছিলে অংশ নেয়।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বামী ও বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক রিজভী চেীধুরীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের একটি অংশ ওই শিক্ষার্থীদের ওপর ক্ষেপে যায়।
শুভ অভিযোগে জানায়, তাকে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ, হুমকি দেওয়াসহ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করেছে কলাগাছিয়া গ্রামের সজল চেীধুরী, সজীব চৌধুরী ও বাইজিদ চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন।
তার দাবি, রিজভী চৌধুরীর নির্দেশে তার নিকটাত্মীয়রা শুভকে মারধর করেছে।
আরেক ছাত্র রেজাউল করিম মৃধা দেশ রূপান্তরকে জানায়, ২৪ মার্চ স্কুল ছুটির পর বিকেল ৫টায় আমরা মিছিলে যোগ দিই। অসুস্থ থাকায় ২৫ মার্চ বিদ্যালয়ে যাইনি। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিদ্যালয়ে গেলে ছাড়পত্র দেওয়ার হুমকি দেন প্রধান শিক্ষিকা নুসরাত জাহান। ২৭ মার্চ সকালে বিদ্যালয়ে গেলে তিনি ছাড়পত্র ধরিয়ে দেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মিছিলে যাও? নৌকার মিছিলে যাও?’
একই অভিযোগে অপর শিক্ষার্থী শুভকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানায় রেজাউল।
সে আরো জানায়, এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ের ২০/২৫জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসলে তাদেরও ছাড়পত্র দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখা হয়েছে।
রেজাউল ও শুভ জানায়, বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের জানানোর পর তাদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
রিজভী চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে জানান, আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক। নৌকার মিছিলে যাওয়ার জন্য বাধা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিএনপির একটি চক্র আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অভিযোগ ছড়াচ্ছে।
শুভকে বহিষ্কার করা হয়নি জানিয়ে প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান দেশ রূপান্তরকে জানান, ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক সেবন, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনসহ নানা অভিযোগ আছে রেজাউলের বিরুদ্ধে। তাকে একাধিকবার সংশোধনের জন্য মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। শুভর অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডাকা হয়েছে। তারা না আসা পর্যন্ত শুভকে স্কুলে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ২৭ মার্চ রেজাউলকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে ২৮ মার্চ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক রিজভী চৌধুরীর ওপর তারা হামলা চালায়।
এ ঘটনায় থানার একটি সাধারণ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার মোর্শেদ জানান, বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। রিজভী চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনায় একটি জিডি গলাচিপায় থানায় দায়ের করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো ছাত্র জড়িত নয়।
গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যান মুহা. শাহীন শাহ বহিষ্কার ও ছাত্রদের মারধরের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে জানান, তারা (ছাত্ররা) সবাই আমার নির্বাচন করেছে। আপস মিমাংসা করে দিয়েছি। জানি না এরপরে আবার কী হয়েছে।
