বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলে নির্ভীক, সৎ ও সাহসী লোক তৈরি করতে পারেননি উল্লেখ করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এটি তার একটি ব্যর্থতা। এই কারণে নেতারা সংকট মোকাবিলা করতে ভয় পাচ্ছে। আর সরকার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উসকানি দেওয়ার সাহস পাচ্ছে’।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, আজকে বিএনপির নির্বাচিত নেতারা বলছেন, এলাকার মানুষের চাপ আছে শপথ নেওয়ার বিষয়ে। কিন্তু শুনতে চেয়েছিলাম, তারা বলবেন খালেদা জিয়া আগে মুক্ত হবেন। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত হলে সংসদে যাওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করব।
শুক্রবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে ‘খালেদা জিয়া তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ৮৬০ পৃষ্ঠার এই বইটি লিখেছেন ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আব্দুল হাই সিকদার।
অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুর ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে সরকার দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আটক রেখেছে। তবে এতে হতাশার কিছু নেই। বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যায়নি। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত চৌদ্দ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে শারীরিকভাবে তিনি খুবই অসুস্থ বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশে অস্বাভাবিক অবস্থা চলছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। আর গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, চেয়ারপারসনের মুক্তি ছাড়া বিএনপির নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্য কোনোভাবেই শপথ নেবেন না। তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাওয়া নিয়ে কোনো আলোচনা নয়। নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বইটি প্রকাশ করেছে বুক অ্যাভিনিউ। দাম ধরা হয়েছে ২ হাজার টাকা। ৮৬০ পৃষ্ঠার বইটিতে খালেদা জিয়ার ১০ বছরের শাসনামলে শিক্ষা-প্রসার, ভিশন-২০৩০, ওয়ান-ইলেভেনে সরকারের সময়ে বিভিন্ন বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ছবি তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বইয়ের লেখক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, আজকের প্রকাশনা উৎসব প্রতিবাদ সমাবেশে পরিণত হয়েছে। এই বইয়ের নাম খালেদা জিয়া নিজে পছন্দ করে দিয়েছেন। আমরা অনেকগুলো নাম নিয়ে তার কাছে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে তিনি এই নামটি পছন্দ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের সহ প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া কো অর্ডিনেটর সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান ও ঐক্যফ্রন্টের দপ্তর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।
