কুমিল্লার মুরাদনগরে বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও পল্লি বিদ্যুতের বকেয়া বিলের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আটক দিনমজুর আব্দুল মতিন অবশেষে জামিন পেয়েছেন।
বুধবার বিকেলে উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামের এই দিনমজুরকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করে মুরাদনগর থানা-পুলিশ। এ নিয়ে এলাকায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রধান করা হয়েছে।
কুমিল্লা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার দেবীদ্বার জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মৃণাল কান্তি চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও বাঙ্গরা-দৌলতপুর জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজুর রহমানকে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তদন্ত দল ওই এলাকায় গেলে স্থানীয় উৎসুক লোকজন দিনমজুর আব্দুল মতিনের বাড়িতে ভিড় জমায়। এ সময় তারা তদন্ত কর্মকর্তার নিকট দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মৃণাল কান্তি চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে জানান, এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিস ট্রাস্ট ব্লাস্ট এর মাধ্যমে কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আব্দুল মতিনের জামিন চাইলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্লাস্ট কুমিল্লা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ নুরুর রহমান। তিনি জানান, ব্লাস্ট ন্যায় বিচারের জন্য মতিনের পাশে থাকবে।
জানা যায়, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মোচাগড়া গ্রামের মৃত অহিদ আলীর ছেলে দিনমজুর আব্দুল মতিন মিয়া ৪ বছর আগে সংযোগের জন্য তিনি পল্লি বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করেন। কিন্তু দালাল চক্রকে চাহিদা অনুসারে উৎকোচ না দেওয়ায় সংযোগটি আর তাকে দেওয়া হয়নি। পরে বিদ্যুৎ অফিসের দালাল আবুল কালাম আজাদ ও আবুল বাশার ঘুষের বিনিময়ে আব্দুল মতিনের আবেদনে একই এলাকার মৃত আব্দুস ছামাদের ছেলে সফিকুল ইসলামের ছবি লাগিয়ে সংযোগটি সফিকুলকে পাইয়ে দেওয়া হয়। পরে মতিনে নামে হওয়া মিটারে গত ২০১৫ সালের ২২ মার্চ সফিকুল ইসলামকে সংযোগ প্রদান করে। সফিকুল ইসলাম ১৭ মাস বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও বিল প্রদান না করায় বকেয়া ৪ হাজার ৭ শত টাকা বিলের জন্য পল্লি বিদ্যুতের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। কুমিল্লা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চান্দিনা অফিসের এজিএম লক্ষণ চন্দ্র পাল বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন।
সেই মামলায় মঙ্গলবার রাতে মুরাদনগর থানার এসআই কবির হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দিনমজুর আব্দুল মতিনকে আটক করে বুধবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
ঘটনার অভিযোগ প্রসঙ্গে সফিকুল ইসলাম বলেন, এই মিটারে আমি ৩/৪মাস বিল দিয়েছি। পল্লি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করলে একসময় তারা মিটারটি নিয়ে যায়।
পল্লি বিদ্যুতের এমন দায়সারা আচরণে ভুক্তভোগী মতিনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয়রা। তারা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িত অসাধু কর্মকর্তা ও দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
কুমিল্লা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ আবেদন ফাইলে ছবি পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করেন।
