বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের মামলায় কুমিল্লার মুরাদনগরের নিরপরাধ দিনমজুর আবদুল মতিন মিয়ার কারাবাসের ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের বিভিন্ন স্তরের ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। গতকাল শনিবার দুপুরে দেওয়া প্রতিবেদনে দুই দালাল আবুল কালাম আজাদ ও আবুল বাশারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে পল্লী বিদ্যুতের দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক দেবীদ্বার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মৃণাল কান্তি চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুপুরে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এতে মুরাদনগর অফিসের ১১ জনের সংশ্লিষ্টতার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদনে দুই দালাল আজাদ ও বাশারের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।’ কমিটির অপর সদস্য হলেন বাঙ্গরা-দৌলতপুর জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান।
চার বছর আগে মুরাদনগরের মোচাগড়া গ্রামের মতিন মিয়ার সংযোগের আবেদন মঞ্জুর করে পল্লী বিদ্যুৎ কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু দালাল চক্রকে চাহিদা অনুসারে ঘুষ দিতে না পারায় সংযোগটি আর তাকে দেওয়া হয়নি। পরে বিদ্যুৎ অফিসের দালাল আজাদ ও বাশার ঘুষ নিয়ে মতিনের আবেদনপত্রের ছবি পাল্টে একই এলাকার মৃত আবদুস ছামাদের ছেলে সফিকুল ইসলামকে ২০১৫ সালের ২২ মার্চ সংযোগটি প্রদান করে।
কিন্তু সফিক নিয়মিত বিল না দেওয়ায় ৪ হাজার ৭০০ টাকা বকেয়া বিলের জন্য পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে মামলা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার রাতে মতিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টির পর গত বৃহস্পতিবার ব্লাস্টের সহযোগিতায় জামিন পান মতিন।
