শবে বরাতের রাতে বন্ধুদের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মোমতাহিন হাসান মিরন। খুনে জড়িতরা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মডার্ন স্কুলের ছাত্র পল্টু, আবির ও আল আমীন বলে জানা গেছে।
রবিবার রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া আলিফ টাওয়ার গলি মদিনা মসজিদের সামনে এ খুনের ঘটনা ঘটে। সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আবুল কালাম আজাদ ও গৃহিণী নুসরাত জাহান বিঞ্জু’র দ্বিতীয় সন্তান নিহত মোমতাহিনের বাড়ি নগরীর ঝাউতলা গ্রামীণফোন গলি।
জানা যায়, রোববার রাতে মোমতাহিন মদিনা মসজিদে শবে বরাতের নামাজ পড়তে যায়। মসজিদ থেকে তাকে ডেকে আনে বন্ধুরা, ওখানেই পেটে ও উরুতে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তারা। পরে মোমতাহিনকে আহত অবস্থায় স্থানীয় এক নারী ও এলাকাবাসী প্রথমে সদর হাসপাতাল ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মা নুসরাত জাহান দেশ রূপান্তরকে জানান, রাত ৮টর দিকে নামাজ পড়ার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় মোমতাহিন। রাত ১০টায় খবর পাই ছেলে মারা গেছে, হাসপাতালে আছে।
তিনি জানান, অন্য স্কুলে পড়া পল্টু ও আবিরের দ্বন্দ্বের বলি হয়েছে আমার ছেলে।
নিহত মোমতাহিনের রড় ভাই মোসাব্বির হাসান নয়ন জানান, কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলের ৮ম শ্রেণিতে পড়ত মোমতাহিন হাসান মিরন। পাশের আরেকটি স্কুল শেখ ফজিলাতুন্নেছা মডার্ন স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র নগরীর ঠাকুরপাড়া খান বস্তির পল্টু একই এলাকার আবির ও আল আমীনের সঙ্গে কিছু দিন আগে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাগ্বিতণ্ডা হয় মোমতাহিনের। এ নিয়ে পল্টু ও আবির বেশ কয়েকবার তাকে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। রবিবার রাতে ঠাকুরপাড়া মদিনা মসজিদে শবে বরাতের নামাজ পরতে গেলে মোমতাহিনকে মসজিদ থেকে ডেকে আনে আবির ও পল্টু। মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসলে মোমতাহিনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তারা। হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিহত মোমতাহিনের নানা মাইনুল হাসান ও সাইফুল ইসলাম।
পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কুমিল্লা কোতয়ালী থানা পুলিশ। কুমিল্লা কোতয়ালী থানার ওসি তদন্ত মো. সালাহ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, নিহতের চাচা কামরুল ইসলাম দুজনের নাম দিয়ে ও আটজনকে অজ্ঞাত রেখে অভিযোগ দিয়েছেন।
তিনি জানান, দুই স্কুলে পড়লেও নিহত মোমতাহিন ও হত্যাকারীরা একসঙ্গে চলত। একটি অনুষ্ঠানে ঝগড়া নিয়ে এ হত্যা।
তিনি জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
