ভারতের মিডিয়া ও বিজেপির প্রতি ক্ষুব্ধ শ্রীলঙ্কার নেটিজেনরা

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:২৩ পিএম

ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শ্রীলঙ্কার নাগরিকেরা। ভারতীয় মিডিয়াকে বিশ্বাস না করতেও টুইটারে আহ্বান করেন তারা।

রবিবার শ্রীলঙ্কায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলাকালে এই বোমা হামলায় নিহত হন ২৯০ জন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচ শতাধিক। তিনটি গির্জা এবং তিনটি হোটেলে মোট ছয়টি বিস্ফোরণ ঘটে। পরে হয় আরও দুটি।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্ট জানায়, এই ঘটনার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এক নির্বাচনী সমাবেশে এটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে হতাহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। আবার একই সমাবেশে তিনি আহ্বান করেন যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তে বিজেপির প্রতীক পদ্মফুলে ভোট দিতে।

মোদি বলেন, “আপনারা যখন ভোট দিতে যাবেন তখন লোটাস প্রতীকের বাটনে চাপ দেবেন। মনে রাখতে হবে, সন্ত্রাস নির্মূলের জন্যই লোটাসে ভোট দেবেন আপনি। আপনাদের আঙুলেই আছে সেই ক্ষমতা। তা দিয়ে লোটাসের বাটনে চাপ দিলেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমার লড়াইকে শক্তিশালী করে তুলবে।”

এই হামলার জন্য এখনও কোনো সংগঠন দায় স্বীকার করেনি। সোমবার দুপুর পর্যন্ত লঙ্কান সরকারও কাউকে বা কোনো সংগঠনকে এই হামলার জন্য দায়ী করেনি। কিন্তু ঘটনার পরপরই ভারতের মিডিয়া মুসলিম চরমপন্থীদের ওপর দায় চাপিয়ে দেয়। একাধিক মুসলিম সংগঠনকে দায়ী করে সংবাদ প্রকাশ করতে থাকে।

লঙ্কান ব্লগার ইন্দি সামারাজিভা টুইট করেন, “শ্রীলঙ্কার ট্র্যাজেডি কত দ্রুত ভারতের নির্বাচনের স্বার্থের বিষয়বস্তু হয়ে গেল। এমন শোকের দিনে ভারতের মিডিয়া এবং বিজেপি নেতারা আমাদের পাশে দাঁড়াল না।”

ব্র্যান্ড বিশেষজ্ঞ এবং লেখিকা আরুনি আবেসুন্দেরি বলেন, “শ্রীলঙ্কার ট্র্যাজেডিকে ভারতীয় মিডিয়া এবং কিছু রাজনৈতিক নেতা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করায় আমি ক্ষুব্ধ ও হতাশ।”

এডিনবার্গ ল স্কুলের শিক্ষক ও সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ ড. আসাঙ্গা ভেলিকালা বলেন, “আমরা কি আশির দশকে ফিরে গেলাম?  দুর্বল এবং বিভক্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠী, কর্তৃত্ববাদী কিন্তু ভঙ্গুর রাষ্ট্র, সমাজের অনৈক্য, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে  আন্তর্জাতিকীকরণ এবং ক্রমাগত ভারতীয় হস্তক্ষেপ?”

সিএনএনের সাংবাদিক শ্রেয়া দাউন্দিয়াল লিখেন, “এখন পর্যন্ত  শ্রীলঙ্কার কোনো মিডিয়াই বলছে না, বোমা হামলা আইএসআই কিংবা বৌদ্ধ চরমপন্থীদের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ভারতীয় মিডিয়াকে আটকানো যাচ্ছে না, তারা খেয়ালখুশিমতো সংবাদ প্রচার করে যাচ্ছে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত