চট্টগ্রামের পাগাড়তলী চালবাজারে যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেলের মূল হত্যাকারী জাভেদ সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) আশিকুর রহমান জানান, রাতে মহিউদ্দিন সোহেল হত্যা মামলার আসামি জাবেদকে গ্রেপ্তার করতে জাম্বুরী মাঠ এলাকায় যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে আসামিরা।
আত্মরক্ষর্থে পুলিশও গুলি করে। এতে জাবেদ গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক জাবেদকে মৃত ঘোষণা করেন।
সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জাভেদ হোসেনকে উদ্ধার করে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি বিদেশি পিস্তল, পিস্তলের দুইটি ম্যাগজিন, ১৩ রাউন্ড গুলি, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি থ্রি কোয়ার্টার বন্দুক, একটি এলজি ও একটি ছোরা উদ্ধার করে।
গোলাগুলিতে ডবলমুরিং থানার ওসি সুদীপ কুমার দাশসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় অন্তত তিনটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, “নিহত জাবেদ মহিউদ্দীন সোহেল হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। মহিউদ্দীন সোহেলকে জাবেদ ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে বলে আসামিদের জবানবন্দিতে জানা যায়।”
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি পাহাড়তলি বাজারে নিহত হন যুবলীগ নেতা মহিউদ্দীন সোহেল। তখন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পুলিশের পক্ষ থেকে মহিউদ্দীন সোহেলকে ‘সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ’ হিসেবে দাবি করা হয়।
কিন্তু ৮ জানুয়ারি বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সোহেলের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে সোহেলের ছোট ভাই মো. শাকিরুল ইসলাম শিশির দাবি করেন, সোহেলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ওইদিন রাতে ডবলমুরিং থানায় স্থানীয় কাউন্সিলর সাবের আহমেদকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন সোহেলের ছোট ভাই মো. শাকিরুল ইসলাম শিশির।
