শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে হামলা

জঙ্গিদের বিষয়ে সেনা গোয়েন্দাদের তথ্য দিয়েছিলেন মুসলিম নেতা!

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৪৫ এএম

শ্রীলঙ্কায় খ্রিস্টানদের ইস্টার সানডের প্রার্থনায় হামলার জন্য দেশীয় জঙ্গি সংগঠন ন্যাশনাল তৌহিদ জামাতকে (এনটিজে) দায়ী করা হচ্ছে। এই হামলায় ৩১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক।

হামলার বিষয়ে লঙ্কান গোয়েন্দাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল- এমন তথ্য বেরিয়ে আসতে দেশটির সরকারের সমালোচনায় মুখর হচ্ছেন অনেকে।

এ ঘটনায় গোয়েন্দাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকারের ভূমিকাও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

ব্লুমবার্গ দাবি করেছে, জঙ্গি সংগঠনটি এবং এর নেতাদের বিষয়ে তিন বছর আগে সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন বলে জানিয়েছেন মুসলিম কাউন্সিল অব শ্রীলঙ্কার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিলমি আহমেদ।

আর সোমবার বিকেলে লঙ্কান সরকার জানায়, তিনটি গির্জা এবং তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে চালানো ছয়টি আত্মঘাতী হামলার জন্য এনটিজে দায়ী।

হিলমি আহমেদ বলেন, “অমুসলিমদের ওপর হামলার মতো কিছুকে তারা (এনটিজে) উৎসাহ দিতো। তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে তারা হত্যা করতে বলতো।”

কলম্বো থেকে সোমবার ফোনে ব্লুমবার্গকে তিনি বলেন, “তিন বছর আগে আমি সশরীরে গিয়েছি এবং এসব মানুষের নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য হস্তান্তর করেছিলাম। তারা (সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা) কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। এটাই হলো সবচেয়ে দুঃখের বিষয়।”

হিলমি আহমেদ বলেন, “নেতারা ব্যক্তিগতভাবে আলাদা আলাদা উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে গিয়ে এনটিজে কয়েকটি সংগঠনে ভাগ হয়ে যায়।”

তিনি বলেন, যদিও সংগঠনের সব সদস্যই উগ্রপন্থী নন, তবে ‘চিন্তা-ভাবনায় সংগঠনটি চরমপন্থী’ ছিল।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে নিজেও প্রশ্ন তুলেছেন, কেন সরকার আগাম সতর্কতা পেয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

এখন হামলায় এনটিজে’র সঙ্গে বিদেশি কোনো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কিনা সেটা তদন্ত করে দেখছে সরকার।

শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী রজিথা সেনারত্নে সোমবার পুলিশ প্রধানকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “গোয়েন্দারা তাদের কাজটি করেছিলেন। কিন্তু সর্বোচ্চ পর্যায়ে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

কেবিনেট মিনিস্টার হারিন ফার্নান্দো মাসের শুরুর দিকের একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নথি প্রকাশ করেছেন। এতে বলা হয়, “ওই গোষ্ঠীটি জনপ্রিয় ক্যাথলিক গির্জা এবং ভারতীয় হাইকমিশনে আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনলাইন অনুসারীদের মধ্যে সংগঠনটির সদস্যরা ঘৃণা উসকে দিচ্ছে।”

ক্ষোভ প্রকাশ করে ফার্নান্দো বলেন, “কেন এই সতর্কতা আমলে নেওয়া হয়নি, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত