একাদশ সংসদে ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহন করায় তাকে বিশ্বাসঘাতক বলছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ির নিজ বাসভবনে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করে।
মির্জা ফয়সল আমীন এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
এ জন্য দলে কোন প্রভাব পড়বে না জানিয়ে জেলা বিএনপির এই সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, দল থেকে তাকে বহিষ্কার করার জন্য বলা হবে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা তাকে (জাহিদ এমপি) দল থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলছেন বলে জানান তিনি।
মির্জা ফয়সল আরো বলেন, জাহিদ এমপি দলের মধ্যে ভাঙনের চেষ্টা করছেন। এটাতে তিনি সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন।
একই মত প্রকাশ করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তার সদস্য পদ বাতিলেরও দাবি তোলেন জেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
জাহিদ এমপির সংসদীয় আসনে পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে শপথ নিয়েছেন এটা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। এটা আমরা ঘৃণার চোখে দেখছি। আমাদের সকলকে ব্যথিত করেছে বলেন মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ওই সংসদীয় আসনের ভোটার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, জাহিদ এমপি শপথ নিয়ে ভোটারদের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এলাকার স্বার্থে, এলাকার উন্নয়নে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মাত্র ৬ প্রার্থী বিজয়ী হন। বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। কারচুপির এই নির্বাচনের ফল বর্জন করে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।
এখনও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। দলীয় সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন জাহিদুর রহমান জাহিদ। জাহিদ এমপি জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এবার নিয়ে তিনি ওই আসনে তিনবার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। পর পর দুবার হেরে গেলেও এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসন (পীরগঞ্জ-রাণীশংকৈল) থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুর রহমান জাহিদ দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে ৮৮ হাজার ৫১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি ইমদাদুল হক মোটরগাড়ি মার্কায় পান ৮৪ হাজার ৩৯৫ ভোট। এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী ইয়াসিন আলী নৌকা প্রতীকে ৩৮ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন।
