শ্রীলঙ্কায় ৩ শিশুসহ নিজেকে উড়িয়ে দিল এক জঙ্গির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:৫৬ পিএম

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলায় অংশ নেওয়া আত্মঘাতী দুই জঙ্গির বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় গ্রেপ্তার এড়াতে বোমার আঘাতে তিন সন্তান সহ নিজেকে উড়িয়ে দেয় এক জঙ্গির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। এ ঘটনায় তিন পুলিশও নিহত হয়েছে।

রবিবার রাতের এ ঘটনা সম্পর্কে শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ কিছুই জানায়নি। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে দেশটির সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট এ খবর দেয়।

এর বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

তিন সন্তানসহ আত্মঘাতী অন্তঃসত্ত্বা ফাতিমা ইব্রাহিমের স্বামী ইনসাফ আহমেদ ইব্রাহিম রবিবার সকালের ভয়াবহ হামলায় অংশ নেয়।

এদিন সকালে ইস্টার সানডে প্রার্থনাকালে তিন গির্জা ও তিন বিলাসবহুল হোটেলে ওই সন্ত্রাসী হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৩৫৯ জন। আহতের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। 

মঙ্গলবার রাতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামি স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করে। আইএসের মুখপত্র আমাক এজেন্সি প্রকাশ করে, হামলায় অংশ নেওয়া আত্মঘাতীদের ছবিও।

ভয়াবহ ওই হামলায় ইনসাফ আহমেদ ইব্রাহিমের সঙ্গে ছিল তার ভাই ইলহাম আহমেদ ইব্রাহিমও। এ দুজন সিনামন এবং শাংগ্রি-লা হোটেলে আত্মঘাতী হামলা চালায়। এ দুই ভাইয়ের বয়স ৩০ এর কোটায় বলে জানা গেছে।

image

এ দুই ভাই কলম্বোর অন্যতম ধনাঢ্য মুসলিম পরিবারের ছেলে। তাদের বাবা মোহাম্মদ ইউসুফ ইব্রাহিম শ্রীলঙ্কার শীর্ষ মশলা ব্যবসায়ী।

দেশটির বামপন্থী রাজনৈতিক দল জনতা ভিমুকথি পেরামুনা পার্টির হয়ে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন।

শ্রীলঙ্কার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী রিশাথ বাথিউদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে পরিচিত ব্যবসায়ী ইউসুফ। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের শপথ অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনা তদন্তে মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ধনী মসলা ব্যবসায়ীর ৬ ছেলে ও ৩ মেয়ে। স্থানীয়ভাবে তিনি বেশ প্রভাবশালী এবং সবাই তাকে সমীহও করে।  

স্বামী এবং দেবরের সঙ্গে ফাতিমাও আইএসের মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জঙ্গি সংগঠনটিতে যোগ দেয়।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, আইএসের প্রকাশিত আট জঙ্গির ছবিতে ফাতিমাও ছিল। ফ্রেমের ডানে স্বামী ইনসাফের পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিল সে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিরর ইনসাফ ইব্রাহিমের শ্যালক আশখান আলাদিনের সাক্ষাৎকার নেয়। পেশায় তিনি একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী।

তিনি বলেন, “ব্যবসায়িক কাজে জাম্বিয়া যাবে বলে শুক্রবার ঘর থেকে বের হয়ে যায় ইনসাফ। বিদায় নেওয়ার সময় স্ত্রীর (ফাতিমা) মাথা ধরে বলে, শক্ত থেকো।”

আলাদিন বলেন, “আমার বোনের স্বামী ছিল এক মানসিক রোগী। জাহান্নামের শাস্তিই তার প্রাপ্য।”    

কলম্বোয় পূর্বাঞ্চলে একটি শিল্প এলাকায় একটি কারখানার মালিক ইনসাফ ইব্রাহিম। ধারণা করা হচ্ছে, কপার ধাতুর ওই কারখানা থেকেই বিস্ফোরক, ডিভাইস ও সুইসাইড ভেস্ট সরবরাহ করা হয় আত্মঘাতী হামলাকারীদের।

রবিবার রাতেই কারখানার ম্যানেজার নয় শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই শ্রীলঙ্কার নাগরিক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত