চাঁদের হাটের দাদুভাই

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৪২ এএম

একটি পাতা থেকে সংগঠনের শুরু। রফিকুল হক দাদুভাইয়ের চাঁদের হাট ৪৫ বছরে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির জন্ম দিয়েছে। তার শৈশব-কৈশোর খুব রঙিন। সে গল্প লিখেছেন ওমর শাহেদ ও রাজু আহমেদ। ছবি তুলছেন তুহিন রেজা

এই গল্পটি চাঁদের হাটের। বয়স হলো এবার ৪৫। ভাবছ, বুড়ো হয়ে গেছে বুঝি! মোটেও নয়। চাঁদের হাটে এখনো শিশু-কিশোরদের কলকাকলিতে মুখর থাকে। তাতে যে এক বুড়ো খোকার অনেক শ্রম আছে। তার ছড়াগুলো তোমাদের চেনা। নামটিও তার সবার জানা রফিকুল হক দাদুভাই। এই দাদুভাইয়ের এবার বয়স হয়েছে ৮৩। চিরকালের নবীন এই খোকার সঙ্গে যদি কোনোদিন দেখা হয়, তাহলে বুঝবে এখনো শিশুদের মতোই কথা বলে; মনটিও ভীষণ রঙিন। কীভাবে চাঁদের হাটের হলো শুরু জানতে হলে একটু বুড়ো খোকার শৈশব ও জীবনের গল্প জানতে হবে। সে একটি রঙিন শৈশবের স্মৃতি বয়ে চলেছে। তবে চলো সেই ভুবনে ঢুকে পড়ি।

জন্ম অবিভক্ত ভারতে। তখন বাংলাদেশ ছিল ভারতবর্ষের অংশ। কুচবিহার নামের ছবির মতো এক শহরে জন্ম। ভাটিয়ালি গানের রাজা আব্বাসউদ্দীন আহমদ এ শহরের মানুষ। ছোট থেকেই রফিকুল হকের বই পড়ার খুব শখ। তাকে তখন লোকে দাদুভাই ডাকত না। বলত রফিক। দাদুভাই নামটি তাকে দিয়েছিলেন রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই। গল্পটি পুরোটা পড়লে জানতে পারবে। মা রহিমা খাতুন ছড়া শুনিয়ে তাকে ঘুম পাড়াতেন ছোটবেলায়। সেগুলো ছিল সুকুমার রায়, সুনির্মল বসুর লেখা।

ছোটকালে বাড়িতে তাদের পত্রিকা আসত দুটি। একটি যুগান্তর, অন্যটি লোকসেবক। এখনো গড় গড় করে সে বলে দিতে পারে যুগান্তরের শিশুদের পাতার নাম ছিল ছোটদের পাততাড়ি; সম্পাদক স্বপন বুড়ো। বুড়ো হলেও সে ছোটদের মতোই ছোট। আরেকটি পত্রিকা পেত তারা লোকসেবক। ছোটদের পাতার নামটি ছিল সবুজ পাতা। সম্পাদকের নাম সবুজ সাথী। রমেন দাস এই ছদ্মনামে পাতাটি সম্পাদনা করতেন। মাঝেমধ্যে তারা কলকাতার আজাদও পেত। বিখ্যাত মওলানা আকরম খাঁর এই পত্রিকার ছোটদের পাতার নাম ছিল মুকুলের মেহফিল। সম্পাদককে ছোটরা বলত বাগবান। সপ্তাহের একদিন তার ঝাঁপি মানে বাগবানের ঝাঁপি নিয়ে বন্ধুদের কাছে চলে আসতেন। ঝাঁপি মানে সাঁজি। পাতাটি দেখতেন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক মোহাম্মদ মোদাব্বের। পাতা ও তার নামটি দিয়েছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আকরম খাঁর খুব বন্ধু ছিলেন কবি।

পত্রিকাগুলো পড়তে পড়তে দাদুভাইয়ের এমনই হলো যে, ছোটকালেই সে পদ্য মিলিয়ে কথা বলত। বন্ধুরা কোনো কিছু খেলেই বলত ‘কী রে, কী খাচ্ছিস/খুব মজা পাচ্ছিস?’ বন্ধুরাও হেসে লুটোপুটি। বড়রা চোখ গোল গোল করে ভাবতেন, রফিক এসব শিখল কেমন করে? তার পড়ার শখ দেখে বাবা কলকাতা থেকে আনন্দবাজারও কখনো আনতেন। সেটির শিশুদের পাতার নাম আনন্দমেলা। এখন এই নামে একটি বিখ্যাত শিশু ম্যাগাজিন আছে। সেসব পড়ে অনেক জেনে গেল দাদুভাই সেই বয়সে। খবর পেল শিশুদের বিকাশের জন্য স্কাউট শুরু হয়েছিল সবার আগে; এরপর হলো ব্রতচারী আন্দোলন। গুরুসদয় দত্তের এই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল আমাদের সিলেটে। সদস্যদের ছেলেমেয়েরা স্বাস্থ্যবান হবে, তারা শরীরটি ভালো রাখলেই না ব্রিটিশ তাড়াতে পারবে এ জন্য তারা বিকেলে ব্রতচারী গানের সঙ্গে নাচত। সেই গান এখনো মনে আছে তার ‘আয় কোদাল চালাই/ করি শরীর ঝালাই।’

বই পড়ার শুরুও তার ছড়া দিয়ে। মদনমোহন তর্কালংকারের শিশুশিক্ষার বই দিয়ে পড়া শুরু। ধীরে ধীরে পড়েছে যোগেন্দ্রনাথ সরকারের ‘হাসি ও খেলা’। তাতে লেখা ছড়াগুলো তার মন আরও গড়ে তিলে তিলে ‘আ তে আমটি আমি খাব পেড়ে।’ পরে নীতিশিক্ষা জেনেছে ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি/সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।’ পঞ্চম শ্রেণিতে পেল ঈশপের গল্প। সেটির নাম ‘কথামালা’। লেখক মদনমোহনেরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। এভাবেই ভালো ছেলে হয়ে বেঁচে থাকা, ছড়ার ভুবনে ডুবে গেল সে।

কুচবিহার পাবলিক স্কুল, কুচবিহার পাবলিক হাই স্কুল, রামভোলা হাই স্কুল পেরিয়ে সে ভর্তি হলো মহারাজা লর্ড জেনকিনস স্কুলে। এটি কুচবিহারের সেরা স্কুল। তারও আগে, সেভেন-এইটে লেখালেখি শুরু করল। প্রথম লিখল ‘রেলগাড়ি রেলগাড়ি/কোথা যাও তাড়াতাড়ি/পু পু ঝিক ঝিক/ধুম ছেড়ে ঠিক ঠিক/এত ছুটে কোথা যাও/আমাকেও সাথে নাও।’ এটিই তার প্রথম লেখা ছড়া। সবুজ সাথীতে চোখ বন্ধ করে, খামে ভরে পাঠিয়ে দিল। বন্ধুদের ডেকে ছড়াটি শোনাল। কিন্তু কেউ বিশ্বাস করল না। চোখ গোল গোল করে পাল্টা প্রশ্ন করল তুই লিখেছিস? এর মধ্যে শুরু হলো পঞ্চাশের কুখ্যাত দাঙ্গা। এলাকার লোকে, ছোটরাও তাদের তাচ্ছিল্য করত। বড়দের তো অশেষ কষ্ট হয়েছে। ফলে দাদার জমিদারি থাকলেও তারা ভাবলেন, পাকিস্তানে চলে যাওয়া ভালো। মাইগ্রেশন করে সবাই চলে এলেন রংপুরে। দাদুভাই ভর্তি হলো মহারাজা কৈলাশরঞ্জন হাই স্কুলে। তখন, ১৯৫১ সালেই টের পেল, ভাষা আন্দোলনের বীজ বপন করা হয়েছে। পরের বছর নাইনে পড়ে সে। ১৯ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ লোকসেবকে একটি ছড়া ছাপা হলো। সবুজ সাথী লিখেছে ‘সবুজ পাতা/সবুজ সাথী/ সবুজ সবার মন।/দেশমাতাকে নতুন করে/গড়াই মোদের পণ/ধনী-গরিব জাতিভেদের বালাই হেথায় নাই/সবুজ মোরা/আপন সবে/সবাই সবার ভাই।’ পরদিন সেটি হাতে পেল। পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক চেতনার ছড়া। এই চেতনার জন্যই সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভীষণ ভালোবাসে। তার পরদিন একুশে ফেব্রুয়ারি হলো। কারমাইকেল কলেজের বড় ভাইদের ডাকে বেরিয়ে পড়ল সেই হ্যাফপ্যান্ট, লুঙ্গি পরা ছেলের দল। তাদের স্কুলের সামনে থেকে পাবলিক লাইব্রেরি ঘুরে জেলা প্রশাসকের বাড়ির সামনে গিয়ে মিছিল করবে এই হলো পরিকল্পনা। কিন্তু জেলা স্কুলের মোড়ে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে তাড়িয়ে দিল। খুব মন খারাপ হলো। পালিয়ে বাঁচল।

ততদিনে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, অন্নদাশঙ্কর রায়, জসীম উদ্দীনের পদ্য পড়ে ফেলেছে অনেক। বড় হয়ে গেছে না! নিজেও টুকটাক লেখে। সেগুলোই ঢাকার সংবাদ পত্রিকার অফিসে খেলাঘরের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিল খামে ভরে। খেলাঘর ভাইয়া কবি হাবিবুর রহমান উত্তর দিলেন ‘তুমি তো চমৎকার লেখো হে/ছড়া লেখা বাদ দিও না।’ এখনো বাংলাদেশের এই বিখ্যাত ছড়াকারের মনে হয় ‘ছড়াকার হওয়ার পেছনে আমার প্রথম ও অব্যর্থ অনুপ্রেরণা ছিল ওই দুটি উচ্চারণ।’ পূর্ব পাকিস্তানে তখন আলাপনী, সেতারাসহ বেশ কটি নামে ছোটদের কাগজ বেরুতো। তাতে তার লেখাও ছাপা হতো। খেলাঘরের ভাইয়াও ছাপিয়েছিলেন। যুগান্তরের সবুজ সাথীতে তার ছড়া ছাপা হয়েছে অনেক পরে। তাতে দাদুভাইয়ের ছড়া লেখায় খুব ক্ষতি হলো। এখানে খেলাঘরের ভুবনে ঢুকে পড়ল সে অবলীলায়। তখন তার বন্ধুরা আজকের সব বিখ্যাত মানুষ সুকুমার বড়ুয়া, আল মাহমুদ, ওমর আলী, আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ, হাবিবুর রহমান মল্লিক, আসমা চৌধুরী (পরে আব্বাসউদ্দীন আহমদের ছেলে মুস্তাফা জামান আব্বাসীকে বিয়ে করলেন ও আসমা আব্বাসী হলেন), দিলারা বেগম (পরে দিলারা চৌধুরী), কবি দিলওয়ার, আল কামাল আবদুল ওহাব। তাদের সবারই স্রষ্টা কবি হাবিবুর রহমান এখনো দাদুভাই বারবার বলেন। রংপুর থেকে লেখা পাঠাতেন তিনি, ছাপা হতো খেলাঘরের পাতায়।

ইন্টারমিডিয়েট পাস করে দাদুভাই ঢাকায় চলে এলেন। জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হলেন। ঢাকায় পা রেখেই চলে গেলেন ২৬১/১, বংশাল রোডে। সেটিই ছিল খেলাঘরের অফিস, সংবাদের সাবেক কার্যালয়। তাতে সংগঠনের কাজ করতেন। লেখাও দিতেন। এখনো মনে আছে ওমর আলী ও আল মাহমুদ মিলে ‘বর্ষা সংখ্যা’ সম্পাদনা করেছিলেন। তাতে ‘ব্যাঙের গান’ নামে তার একটি ছড়া ছিল। প্রথম দুটি লাইন‘আহা বর্ষা, কী যে বর্ষা, ভালো বর্ষা/এক বৎসর পরে ফিরে পাই মনে ভরসা।’ ইন্টার পাসের পর ডিগ্রির লেখাপড়া করতে তিনি চলে গেলেন সরকারি কারমাইকেল কলেজে। কিন্তু বাড়ি গিয়েও ছড়া লেখা থামল না। বরং বাড়ল। নামও হলো। ১৯৬১ সালে পাস করে ঢাকায় এলেন। দেখা করলেন ভাইয়া কবি হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি সংবাদের রাতের পালার শিফট ইনচার্জ। একটি নিউজ মানে খবর সম্পাদনার জন্য হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এই করেই তো খেতে হবে, নাও নাও।’

এই শুরু হলো সাংবাদিকতা জীবন। তার উৎসাহে বিখ্যাত সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার সংবাদে থাকতে ছড়া লেখা শুরু করেছিলেন। তিনি ছড়াকার হিসেবেও বিখ্যাত হয়েছেন। ছড়াকার হিসেবে বিখ্যাত সাংবাদিক হেদায়েত হোসেন মোরশেদও তখন তার হাত ধরে ছড়া লেখা শুরু করেছেন। দাদুভাই তাদের শিফট ইনচার্জ ছিলেন। আবু হাসান শাহরিয়ারও তার হাত ধরে ছড়া লেখা শুরু করেছেন। এখন দাদুভাই দৈনিক যুগান্তরের ফিচার সম্পাদক, আছেন উপসম্পাদক হিসেবে।

এবার চাঁদের হাটের গল্প। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন দৈনিক ‘পূর্বদেশ’-এ। ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ ইত্তেফাক পুড়িয়ে দেওয়ায় তাদের ছোটদের পাতা কচিকাঁচার আসরের সম্পাদক রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের চাকরি নেই। ফলে পূর্বদেশের সম্পাদক বিখ্যাত সাংবাদিক কাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস ডেকে চাকরি দিলেন। তিনিই চাঁদের হাট নামে শিশু পাতাটি শুরু করেছিলেন। ২১ মে থেকে পাকিস্তানি সেনারা ইত্তেফাকের দায়িত্ব নিয়ে সেটি আবার চালু করল। দাদাভাই চাকরি ফিরে পেলেন। ইদ্রিস সাহেব জানতেন, রফিকুল হক ছড়া লেখেন। তার কথাই প্রথমে ভাবলেন পাতার সম্পাদক হিসেবে। রোকনুজ্জামান দাদাভাই ও রফিকুল হক দাদুভাইয়ের নামে ভীষণ মিল। কচিকাঁচার আসরের সম্পাদক দাদাভাই যাওয়ার আগে রফিকুল হককে ডেকে বললেন, ‘আপনার নামটি বদলাবেন নাকি?’ দাদাভাই তার নাম দিলেন ‘দাদুভাই’। সেই থেকে তিনি রফিকুল হক দাদুভাই।

১৯৭১ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত টানা চাঁদের হাট সম্পাদনা করলেন। আগে সাংবাদিকতার ভালো কোর্স করেছেন, মেকআপ গেটআপেও পাকা। খুদে লেখকদের নামে ছড়া ছাপা হয়, তারা চিঠি দেয়, উত্তর পায়, ছাপাও হয়। বিষয়ভিত্তিক সংখ্যাও আছে। চাঁদের হাট খুব জনপ্রিয় পাতা হলো। সেই সূত্রেই ১৯৭৪ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে অবজারভার ভবনের একটি হলরুমে বিন্নি ধানের খই, মোয়া ও মুড়কি দিয়ে আপ্যায়ন করে ‘চাঁদের হাট’ নামে শিশু সংগঠনের যাত্রা শুরু হলো। উপদেষ্টা হলেন চারজন পূর্বদেশের সম্পাদক এহতেশাম হায়দার চৌধুরী (তিনি একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর ছোট ভাই),  কলকাতার প্রথম বাঙালি চলচ্চিত্রকার, বাংলাদেশ অবজারভারের সম্পাদক ওবায়েদ-উল হক, চিত্রালীর সম্পাদক এস এম পারভেজ, মর্নিং নিউজের সম্পাদক, এখন নিউ নেশনের সম্পাদক আবু মোহাম্মদ মোফাজ্জল।

এই শিশু সংগঠনের বিস্তৃতির পেছনে গতিশীল সম্পাদক এহতেশাম হায়দার চৌধুরীর নেতৃত্বের কথা বলেন দাদুভাই। এস এম পারভেজ অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ঢাকার শহীদবাগে প্রথম শাখা খোলা হলো। ১৯৭৪ সালেই সারা দেশে ৩১৬টি শাখা হলো। কর্মীবাহিনীর মধ্যে ছিলেন ইমদাদুল হক মিলন, আফজাল হোসেন, শাহ আলমগীর, সাইফুল আলম, আলীমুজ্জামান, হাসান হাফিজ, গোলাম মাওলা শাহজাদাসহ আরও অনেক বিখ্যাত এবং সাধারণ হাজারো মূল্যবান মানুষ। সবারই শ্রম ছিল প্রচন্ড। তারা স্কুল-কলেজের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে অনুষ্ঠান করেছেন। এখনো করেন। শাহ আলমগীর সংগঠনের খবর পায়ে হেঁটে মতিঝিল থেকে রামপুরার টেলিভিশন ভবনে গিয়ে দিয়েছেন।

পরে পত্রিকাগুলোর প্রকাশনা বাতিল করা হলে চাঁদের হাট মুখপাত্র হারাল। বঙ্গবন্ধুর শেষ জন্মদিনে তারা তার জন্মদিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালনের জন্য প্রথম প্রস্তাব করেছেন। পত্রিকা বন্ধের পর চাঁদের হাট চলে এলো দাদুভাইয়ের ঢাকার ২০১, মধ্য বাসাবোর বাড়িতে। বাড়ির একটি ঘর ছেড়ে দিলেন। এরপর এহতেশাম হায়দার চৌধুরীর মাধ্যমে তিনি এলেন কিশোর বাংলায়। সেখানে নির্বাহী সম্পাদক হলেন। চাঁদের হাটের খবর বেশি ছাপান বলে তথ্য মন্ত্রণালয়ে তার নামে নালিশও গেছে লিখিতভাবে। জিয়াউর রহমানের আমলে আগের প্রথা বাতিল হয়ে গেল। কিশোর বাংলা বন্ধ হয়ে গেল ১৯৮৪ সালে। এরপর থেকে সদস্যরাই এই সংগঠন চালাচ্ছেন বলে দাদুভাই তাদের প্রশংসা করে বললেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত