বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগকে ভালোভাবে চেনার আমাদের আর কিছু নেই। আমরা আওয়ামী লীগকে খুব ভালো করেই চিনি। আমরা আমাদের সমস্ত অধিকার দিয়ে চিনেছি। জীবন দিয়ে চিনেছি। আমরা জানি আওয়ামী লীগ কী’।
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রামের যে ইতিহাস কখনো ব্যর্থ হয়নি ইনশা আল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই’।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) বার্ষিক কাউন্সিলে তিনি এসব বলেন।
সাংবাদিকতাকে ‘মহৎ পেশা’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘তাই আপনাদেরও ভাবতে হবে দেশে রাজনীতিতে কী চলছে, আর বিশ্বের রাজনীতিতে কী ঘটছে, অন্যান্য জাতি কী অবস্থার মধ্যে আছে, আমরা কী অবস্থার মধ্যে আছি। ব্যক্তি হিসেবে বিচার করে কখনো সামগ্রিক রাজনীতিক ব্যক্তিত্বকে বিচার করা যায় না’।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, মানুষের স্বাধীনতা, জাতির স্বাধীনতা পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশ একটা গভীর সংকটের সমস্যা বিরাজ করছে। এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় জীবনে, সমাজ জীবনে, রাষ্ট্র জীবনে এবং আমাদের ব্যক্তি জীবনেও।’
তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। আমরা এ নিয়ে কথা বলছি, চেষ্টা করেছি, আন্দোলন করছি। কিন্তু সব সময় সব আন্দোলন সফল না হতে পারে। কারণ ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপনি যখন সংগ্রাম করবেন আপনাকে বুঝতে হবে এটা কোনো সাধারণ সংগ্রাম নয়। এর জন্য আমরা কাজ করছি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সড়ে দাঁড়াইনি’।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে ১৯৭১ সাল আর বর্তমান সময় এক নয়। আপনাদের বুঝতে হবে কোন রাস্তায় গেলে আমরা গণতান্ত্রিকভাবে একটি পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব। সংবাদকর্মীরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন’।
‘এই ফ্যাসিবাদ সরকারের জাঁতাকলে অনেকে নির্যাতিত হয়েছেন, অনেকে জীবন দিয়েছেন। আমরা যারা রাজনীতি করছি তারা আরাম-আয়েশের রাজনীতি করছি যদি মনে করে থাকেন ভুল করছেন। এ দেশের রাজনীতিবিদরা দেশ সৃষ্টির পর থেকেই অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন গণতন্ত্রের জন্য। কেউ নিহত হয়েছেন কেউ কারাগারে গেছেন দীর্ঘকালের জন্য’।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম না থাকলে গণতন্ত্রকে সুষ্ঠু বলা যায় না। দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারিনি’।
বাংলাদেশে গভীর এক সংকট সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই ফ্যাসিবাদী সরকার সব রাষ্ট্রীয় যন্ত্রগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। প্রায় সব গণমাধ্যমগুলোর মালিকানা দখল করেছ। আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি অনেক সাংবাদিকদের আজকে কাজ (চাকরি) নেই’।
তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা সব সময় খারাপ হয় না। তারা দেশের জন্য অনেক ত্যাগ করেন। আমাদের অনেক নেতাকর্মী আছেন যারা সরকারের হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ঢাকায় এসে রিকশা চালাচ্ছেন, হকারের কাজ করছেন’।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছেন। আমরা দেশনেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি’।
বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য দেন, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সাংবাদিক নেতা কামাল উদ্দিন সবুজ, এম আব্দুল্লাহ, কাদের গনি চৌধুরী, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, এম এ আজিজ প্রমুখ।
