পঞ্চগড় জেলা কারাগারে শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী হাজতি পলাশ কুমার রায় (৩৬) মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
পলাশ পঞ্চগড়ের আটোয়ারি উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বড়সিংগিয়া গ্রামের প্রণব কুমার রায়ের ছেলে। তার মা মীরা রাণি ওই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান।
পঞ্চগড় জেলা কারাগারের কারাধ্যক্ষ মুশফিকুর রহমান পলাশের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ২৬ মার্চ থেকে একটি মানহানির মামলায় কারগারে আটক ছিলেন পলাশ। সেরোসিস অর্থাইটিস রোগে ঠিকমত হাঁটাচলা করতে না পারায় তাকে কারা হাসপাতালে রাখা হয়েছিল।
গত ২৮ এপ্রিল ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার আরেকটি মামলায় হাজিরার তারিখ ছিল। সেজন্য ২৬ এপ্রিল সকালে পুলিশ স্কট চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবরে দাপ্তরিক চিঠিও দেয়া হয়। ওইদিন ( ২৬ এপ্রিল ) সকালে কারা হাসপাতালের বাইরের বাথরুমে তিনি গ্যাস লাইটার দিয়ে নিজের শরীর ও কাপড়ে আগুন লাগিয়ে বাইরে হন।
এসময় কারারক্ষিরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলেন। পরে তাকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিনই তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিবাগত রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে পলাশ কুমার রায়ের মা মীরা রাণি ছেলের দগ্ধ হওয়ার ঘটনাকে সন্দেহজনক উল্লেখ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আবু আক্কাস আহমদ জানান, গত ২৫ মার্চ দুপুরে পঞ্চগড় শের-ই-বাংলা পার্ক সংলগ্ন মহাসড়কে পলাশ ও তার পরিবারের সদস্যরা তার একটি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে কটূক্তিসহ অশালিন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে দেয়।
পরে ওইদিন বিকেলে শহরের ধাক্কামারা এলাকার রাজিব রানা নামের এক যুবক পলাশের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় সদর থানায় প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তির অভিযোগে একটি মানহানির মামলা করেন। এ মামলায় পরদিন আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
