রাজশাহী ইউসিসি কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদেরকে সংবর্ধনা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- কোচিং সেন্টারটি এমন কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের কোচিংয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে যারা প্রকৃতপক্ষে ওই কোচিংয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না।
বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সানজিদা ঢালী বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউসিসি কর্তৃপক্ষ সংবর্ধনার নাম করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত বিভিন্ন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের তথা আমাদের কাছ থেকে ছবি, মোবাইল নম্বর, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, প্রাপ্ত জিপিত্রসহ ফরম পূরণ করিয়ে নেয়।
এসব তথ্য ব্যবহার করে ইউসিসি ২০১৯ সালে রাজশাহী শাখা থেকে প্রকাশিত প্রোসপেক্টাসে আমাদের ইউসিসি’র শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমরা কেউই ইউসিসিতে কোচিং করিনি। ইউসিসি’র এ কাজটি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার ও প্রতারণা।
সানজিদা জানান, তিনি গত বছর (২০১৭-১৮ সেশন) বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তির আগে তিনি রাজশাহীতেই একটি কোচিংয়ে এক মাস ক্লাস করেছিলেন। কিন্তু ইউসিসি প্রোসপেক্টাসে সানজিদাকে এ বছর চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী হিসেবে প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউসিসি রাজশাহী শাখার পরিচালক দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেন।
তিনি বলেন, প্রোসপেক্টাসে আমরা যাদের ছবি ব্যবহার করেছি তারা সবাই আমাদের কোচিংয়ের শিক্ষার্থী। সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। আমাদের শিক্ষার্থী যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে তাদের সংবর্ধনার জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছি। ওই সময় অন্য কেউ নিজে থেকে ফরম পূরণ করে ফেলতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু বলার নেই।
ইউসিসির ঢাকা হেড অফিসের ম্যানেজার সেলিম বলেন, কেউ যদি ইউসিসিতে কোচিং না করে তাহলে তাদের ছবি ছাপানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। রাজশাহী শাখা এমনটা করেছে কিনা জানি না। ওদের সাথে কথা বলে দেখবো। আর এসব বিষয়ে আপনার-আমার মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আইন বিভাগের লামিয়া, এষা, মারুফ, মোর্শেদ, তন্বী, আছিয়া, হুমায়ুন কবীর, সাজেদুল হকসহ ১৯জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
