আসন্ন ঘূর্ণিঝড় ফণীকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া ‘সার্বিক পরিস্থিতি’ বিবেচনা করে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের ফাইনাল বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
ফণী ইতিমধ্যে ভারতের ওডিশার পুরীর কাছ থেকে উপকূল অতিক্রম করেছে। শুক্রবার মধ্যরাত নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলে পৌঁছাতে পারে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের অনেক জেলায় এর প্রভাব পড়েছে। রাজধানীতেও বিকেল থেকে হচ্ছে থেমে থেমে বৃষ্টি।
এর মধ্যে শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ ও লাওস ম্যাচটি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু হয়নি। বেলা ৪টার দিকে ২০ মিনিটের প্রবল বৃষ্টিতে মাঠ ভিজে যায়।
এরপর কিছু সময় থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও ম্যাচটি চালিয়ে নেওয়া যেত। এমন পরিবেশে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আগে অনেক ম্যাচ হয়েছে।
এদিন বাংলাদেশ-লাওসের মেয়েরাও খেলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তাদের ওয়ার্মআপ করতে দেখা যায়। গ্যালারিতে দর্শকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে পৌনে ৬টা নাগাদ গুঞ্জন ছড়ায় বাতিল হচ্ছে ম্যাচ। চূড়ান্ত ঘোষণা আসে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে। আয়োজকেরা জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ম্যাচ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুশের্দী বলেন, ‘‘এই টুর্নামেন্টটা শুরু করে আমরা শেষ করা পর্যন্ত সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। আজকে হয়তো ঢাকায় হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এটা পুরো দেশের আসল দৃশ্য নয়।’’
দেশের ফুটবলের কিংবদন্তি ও বর্তমান সংসদ সদস্য (খুলনা-৪) সালাম মুশের্দী যোগ করেন, ‘‘আমি যে জায়গার সংসদ সদস্য সেই বাগেরহাট, সুন্দরবন, কয়রা অঞ্চল ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়ে গেছে। এই ধরনের জাতীয় দুর্যোগে খেলা পরিচালনার ব্যাপারে, আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে এটা (খেলা বাতিল) সেরা সিদ্ধান্ত।’’
বাফুফের ব্যবস্থাপনায় মেয়েদের কোনো আন্তর্জাতিক আসর ছিল এটিই প্রথম। টুর্নামেন্টের স্বত্বাধিকারী ছিল কে-স্পোর্টস। সেই প্রতিষ্ঠানও মেনে নিয়েছে বাফুফের সিদ্ধান্ত। কে-স্পোর্টসের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ফাহাদ এম এ করিম উপস্থিত ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না কেউ এমন সমাপ্তি কামনা করেছিল। এখানে আমাদের বুঝতে হবে, আমরা তো একটা দেশের মধ্যে আছি। এই যে দুর্যোগটা হচ্ছে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে ইতিমধ্যে সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে।’’
‘‘আমরা তো বাংলাদেশের বাইরে কেউ না। এমন একটা সময়ে আমাদের দেশের একটি কর্নারে যখন মানুষ দোয়া করছে, ঝড় যেন না হয়। সেই সময় আমরা যদি ফুটবল উদ্যাপন করি, আমার মনে হয় এটা কারোরই কাম্য নয়। আমরা সকলেই বাংলাদেশি। আমাদের ভাবতে হবে দেশের সকলের জন্য।’
ফাহাদ এম এ করিম জানান, তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ অন্য স্পনসর প্রতিষ্ঠানও মেনে নিয়েছে সিদ্ধান্ত, ‘‘আমরা আমাদের স্পনসরদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রত্যেকটা পার্টনার আমাদের একবাক্যে বলেছে এমন একটা সময়ে এটা সেরা সিদ্ধান্ত।’’
লাওসের টিম ম্যানেজার গালদানসুক জানান, আয়োজকদের সিদ্ধান্তে পূর্ণ সম্মান আছে তাদের। যদিও খেলার পরিবেশ ছিল এমন কথাও বেরিয়েছে তার কণ্ঠে। তবে ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়’ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তিনি।
ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদের। ম্যাচ বাতিল হওয়ায় তিনি মাঠে আসেননি।
