সাদাদের হাতে জিম্মি দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতি

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ১০:৫৩ পিএম

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রায় দুই দশক হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। শ্বেত আধিপত্যবাদিতার বিরুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ের লড়াই দীর্ঘদিন চলে দেশটিতে। অনেক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বর্ণবাদী সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছিল। দেশটি গণতন্ত্রের স্বাদ পেলেও এখনো দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের জীবনযাত্রার মানে যে গভীর অসাম্যতা রয়েছে, তা শহরাঞ্চলের দিকে তাকালেই দেখা যায়।

বস্তুত গণতান্ত্রিক ২৫ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের সবচেয়ে অসাম্য দেশে পরিণত হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের এক রিপোর্টে বলা হয়। ১৯৯৪ সালের চেয়েও দেশটি এখন বহুধা বিভক্ত। জাতিবিদ্বেষের ভ্রুণ এখনো কুরে কুরে খাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকানদের। আগে দেশটির সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের খুব অল্পই সম্পদ এবং কর্মক্ষেত্রে মজুরিও কম পেত। ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে দেখা যায়, দেশটিতে এখনো কর্মসংস্থানের এবং দক্ষ জনগোষ্ঠীর অভাব তীব্র। কিন্তু এর বিপরীতে সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গদের আর্থিক এবং সামাজিক অবস্থা আগের চেয়ে আরও উন্নত হয়েছে। আজ দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতীয় নির্বাচন। আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) আবার নির্বাচনে জেতার আশা করছে। কিন্তু ধনী-গরিবের গগনচুম্বী বৈষম্যে এবার এএনসির আশাভঙ্গও হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অক্সফামের দক্ষিণ আফ্রিকাবিষয়ক কর্মকর্তা থানডাজো দলুভের মতে, সামাজিক অসাম্যতা সরকারি পর্যায়ের সব পর্যায়ে বিরাজ করছে। শুধু যে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে অসাম্যতা রয়েছে, তা নয়, সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে।

শহরাঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ, পানি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা এখনো আক্ষরিক অর্থেই ধনীদের জন্য। এএনসি ক্ষমতায় থাকার পরও দেশটির কৃষ্ণাঙ্গ সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মান একটুও বাড়েনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত