যশোরের মনিরামপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানের নাম ভাঙিয়ে থানার এসআই প্রশান্ত কুমারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, সহকারী কমিশনারের নামে তিনি নূর ইসলাম নামের এক চা বিক্রেতার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন।
এদিকে ৭ মে এসআই প্রশান্তের কুষ্টিয়ায় বদলির আদেশ হয়েছে। ৮ মে সকালে তিনি মনিরামপুর থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন। এসআই প্রশান্ত মনিরামপুর ছাড়ার পর তার চাঁদাবাজির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় প্রশাসনসহ উপজেলাজুড়ে তোলপাড় চলছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান তার নামে চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করলেও এসআই প্রশান্ত অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের শিরালী মদনপুর গ্রামের আমিনউল্লাহর ছেলে নূর ইসলাম পেশায় একজন চা বিক্রেতা। উপজেলার সাড়াপোল বাজারে তার চায়ের দোকান রয়েছে। মাসখানেক আগে সাড়াপোল বাজারের পাশে সরকারি জমি থেকে মাটি কেটে তিনি নিজের সীমানা ভরাট করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বঙ্কিম চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি তার (নূর ইসলাম) বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগটির তদন্তের ভার পড়ে এসআই প্রশান্তের ওপর। তিনি ৫ মে বিকেলে দুপক্ষকে থানায় তলব করেন। কিন্তু বাদীপক্ষ সেদিন উপস্থিত হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন রাতে এসআই প্রশান্ত স্থানীয় হাবিবুর নামে এক দালালের মাধ্যমে নূর ইসলামকে থানায় ডেকে এনে তার পক্ষে প্রতিবেদন দেওয়া এবং এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার ভূমি) সাইয়েমা হাসানকে ম্যানেজ করতে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু চা বিক্রেতা নূর ইসলামের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। পরে ওই দালাল হাবিবের সঙ্গে তার ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। সে মোতাবেক ধারদেনা করে পুলিশকে দিতে নূর ইসলাম ১৮ হাজার টাকা হাবিবের হাতে দেন। বাকি ৩২ হাজার টাকার জন্য এসআই প্রশান্ত এবং দালাল হাবিব তাকে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু নূর ইসলাম টাকা জোগাড় করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বিষয়টি এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসান জানতে পারেন।
সাইয়েমা হাসান জানান, নূর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি সরকারি জমি থেকে মাটি কেটেছে জানতে পেরে স্থানীয় নায়েবকে বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে জানতে পারি থানার এসআই প্রশান্ত ওই ব্যক্তির কাছে আমার নাম করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। তার মধ্যে কিছু টাকা এরই মধ্যে তিনি ওই ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে এসআই প্রশান্তকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। বিষয়টি মনিরামপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাকিব হাসানকে জানানো হয়েছে।
তবে এসআই প্রশান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক। যদিও তিনি অভিযোগ ওঠা এবং এসিল্যান্ড অফিসে তলবের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সহকারী পুলিশ সুপার রাকিব হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
