ঈদকে সামনে রেখে চাঁদপুরের বিভিন্ন কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নোংরা পরিবেশে কাজ করছে কারিগররা। অস্বাস্থ্যকর ও মানহীন এসব সেমাই ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন জায়গায়।
গত বুধবার চাঁদপুর পুরানবাজার এলাকার বিভিন্ন কারখানা ঘুরে দেখা যায়, ঘর্মাক্ত শরীর ও কোনোরকম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ছাড়াই কারিগররা সেমাই তৈরি করছেন। ময়দার খামির তৈরির পাশাপাশি ফুঁকছেন বিড়ি-সিগারেট। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে কাজ করছেন তারা। তাপপ্রবাহ থাকায় শরীরে প্রচুর ঘাম হচ্ছে। যার অনেকটাই মিশে যাচ্ছে সেমাইয়ের খামিরে।
গোয়ালঘরের পাশেই তৈরি করা হয়েছে কিছু কারখানা। গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণী ঢুকে পড়ছে কারখানায়। নিম্নমানের ময়দা দিয়ে তৈরি এসব সেমাই ভাজা হচ্ছে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা পাম অয়েল দিয়ে। কোনোরকম ঢাকনা ছাড়াই রেখে দেওয়া হচ্ছে খোলা স্থানে। বানানো এসব সেমাই খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
প্রতিদিন চাঁদপুরে বিভিন্ন কারখানায় তৈরি হচ্ছে প্রায় ৫০ মণ সেমাই। এসব সেমাই চরাঞ্চলসহ চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বাড়ছে সেমাইয়ের। ঈদের আগে সেমাই তৈরি আরও বাড়বে বলে জানান কজন মালিক।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কথা স্বীকার করে পুরানবাজারের পাঁচতারা সেমাই কারখানার মালিক মনসুর মিজি ও মিম লাচ্ছা সেমাই কারখানার ম্যানেজার ইউসুফ তালুকদার এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি মানসম্মতভাবে সেমাই তৈরি করতে। বর্তমানে গরম বেশি পড়ায় কারিগররা হাত গ্লাভস, মুখে মাক্স ব্যবহার করছে না।
