পীরগঞ্জে খাদ্য ও কৃষি কর্মকর্তার কূটকৌশল ফাঁস

আপডেট : ২৪ মে ২০১৯, ১২:৪৩ এএম

এবার সরকারি গুদামে সরাসরি গম দেবে কৃষক। চাষিদের ন্যায্য দর নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত হয় লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন হবে। ঠিক তাই হলো ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদে। লটারির মাধ্যমে কৃষকের কৃষি কার্ডের নম্বর তুলে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু কৃষি কার্ডের নম্বরের পাশে কৃষকের নাম না রাখায় সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফাঁকি দিয়ে সিন্ডিকেট চক্রের পছন্দের কৃষকের নাম লিখে ফের তালিকা তৈরি করে কৃষি ও খাদ্য বিভাগ। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর সচেতন কৃষকের দাবির মুখে গম কেনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ।

গত ১৬ মে বিকেলে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ৫১ হাজার কৃষকের মধ্যে ২১ হাজার গমচাষিকে এ লটারির আওতায় আনা হয়। এদের মধ্য থেকে ১ হাজার ৬১৮ জন কৃষকের কৃষি কার্ডের নম্বর লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। প্রত্যেক কৃষকের এক টন করে গম কেনার সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর কৃষি কর্মকর্তা এম এম গোলাম সারওয়ার, পীরগঞ্জ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মাহবুব হাসান ও লোহাগাড়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শাহিন আলমসহ একটি সিন্ডিকেট রাতারাতি নির্বাচিত কৃষকের কৃষি কার্ডের নম্বর পরিবর্তন করে ওই চক্রের পছন্দের লোকজনদের নাম দিয়ে ফের তালিকা তৈরি করে। যে তালিকায় একই পরিবারের সাত-আটজনের এবং একই পাড়ার ৩০-৩৫ জন কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ অবস্থায় গত ২০ মে বিকেলে খাদ্য বিভাগ ওই পুনঃতৈরি তালিকা অনুযায়ী গম ক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করে। এ সময় খাদ্যগুদাম চত্বরে কৃষকরা বিতর্কিত তালিকা দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে গম কেনা বন্ধ করাসহ লটারি বাতিল করার দাবি জানান। এরপরও ২১ মে ভোরে পীরগঞ্জ খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বিতর্কিত লটারির তালিকায় নাম থাকা পৌর শহরের জগথা গ্রামে একটি প্রভাবশালী পরিবারের সাতজনসহ বেশকিছু কৃষকের নামে প্রায় ৩০০ বস্তা গম গুদামে ঢোকান। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম গোলাম সারওয়ার বলেন, লটারির তালিকায় কোনো রদবদল করা হয়নি বা তিনি কোনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নন। কিন্তু পীরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল মোমিন সরকার জানান, অনেক চাপাচাপির পর ওই তালিকা থেকে প্রভাবশালী পরিবারটি নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, কিছু বিষয়ে সমস্যা রয়েছে। তবে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকেই গম কেনার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত