সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার রুপিয়া গ্রামে জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে দুটি পরিবারকে ‘সমাজচ্যুত’ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রভাবশালী ফারুক মিয়া ও তার সহযোগীরা সমাজচ্যুত দুই পরিবারের একটির গৃহকর্তাকে হত্যা মামলায়ও জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রবিবার সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন ‘একঘরে’ হয়ে থাকা রুপিয়া গ্রামের এনামুল হক ও ছমির মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এনামুল হক জানান, গ্রামের প্রভাবশালী ফারুক মিয়া জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে তার পরিবারকে একঘরে করেছেন। ফারুক তার অনুসারীদের নিয়ে এক বছর আগে তাকে একঘরে করার ঘোষণা দেন। এনামুলের তিন কন্যা সন্তানকে মক্তবে যেতে নিষেধ করেছেন। তার সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে প্রতিবেশী ছমির মিয়ার পরিবারকেও সমাজচ্যুত করে রেখেছে ফারুক ও তার সহযোগীরা। তাদের পরিবারে শিরনি দেওয়ার কারণে এলাকার ছালিক মিয়ার মেয়েকে মারধর করে ফারুকের লোকজন। এ ঘটনায় ছালিক মিয়া
থানায় মামলা করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে এনামুল বলেন, ‘আমি ওষুধ কোম্পানির একজন বিক্রয় প্রতিনিধি। এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানালেও প্রতিকার মেলেনি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের অবহিত করলে তারাও ফারুক ও তার পক্ষের লোকজনকে দমাতে পারেননি। উপরন্তু ফারুক মিয়া তার (এনামুলের) বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন।’
এনামুল জানান, এরমধ্যেই ২০১৮ সালের নভেম্বরে সিলেট কোতোয়ালি থানা এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যামামলায় তাকে আসামি করা হয়। এনামুল দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। কেবল হয়রানির জন্য তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এনামুল আরও বলেন, ‘মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে আমি এখন পলাতক অবস্থায় আছি। অন্যদিকে একঘরে করে রাখায় আমার স্ত্রী-সন্তানরাও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। একইভাবে বিপাকে দিন কাটাচ্ছে ছমির মিয়ার পরিবারও।’ তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
