কুমিল্লার হোমনায় নাজমা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মৃত মো. হোসেন মোল্লার বাড়ি থেকে পুলিশ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
নিহতের বাবা হাজি আব্দুস সালাম স্বামীসহ ৬ জনের নামে হত্যার হোমনা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৬ বছর পূর্বে তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি গ্রামের হাজী আব্দুস সালামের ছোট মেয়ে নাজমা আক্তারের সাথে হোমনা উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মৃত হোসেন মোল্লার ছেলে মো. মাঈন উদ্দিনের বিয়ে হয়। মাহিনুর আক্তার (৪) ও নোমান হাসান (৮মাস) নামে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।
এরই মধ্যে মাইন উদ্দিন গোপনে পার্শ্ববর্তী বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বুধাইরকান্দি গ্রামের ছালমা আক্তার (২৯) নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে। সেখানেও তার একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয়।
এর পরে ছালমা ও মাইন উদ্দিনের ডিভোর্স হলেও ফের গত কয়েকমাস ধরে দ্বিতীয়া স্ত্রী ছালমা ও মাইন উদ্দিনের মেলামেশা শুরু করে। পাশাপাশি উভয়েই প্রকাশ্যে নাজমাকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ মে রাতে হাত-পা বেধে পিটিয়ে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে এবং মাইন উদ্দিন নিজেই নাজমার বাপের বাড়িতে ফোন দিয়ে জানায় সে আত্মহত্যা করেছে।
নিহতের বাবা ও মামলার বাদি হাজী আব্দুস সালাম বলেন, গত কয়েকমাস ধরে ব্যবসার করার জন্য জামাই আমার কাছে টাকা চাইছে। আমি টাকা না দেওয়ায় আমার মেয়েটারে এভাবে খুন করবে আমি ভাবতে পারি নাই। আমি আমার মেয়ে হত্যার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
হোমনা থানার ওসি সৈয়দ মো. ফজলে রাব্বি বলেন, গৃহবধূর সুরতহাল রিপোর্টে শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে শহিদুল্লাহ (৪৫) নামে ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
