রূপসজ্জার জন্য প্রাকৃতিক উপাদানের তুলনা হয় না। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রকৃতিতেই আছে রূপসজ্জার প্রাচীন উপকরণ। কেমিক্যালমুক্ত এই সব উপাদানেই আছে সৌন্দর্য চর্চার গোপন রহস্য।
ত্বককে উজ্জ্বল করতে ও টানটান রাখতে, চেহারায় ব্রণমুক্ত করাসহ তারুণ্য ধরে রাখতে এই ৮ টি উপাদান এ অঞ্চলের মানুষ ব্যবহার করে আসছি প্রাচীনকাল থেকে।
নিম
নিম ব্রণ ও এর দাগ দূর করতে বেশ কার্যকর। এটি ত্বকের ফুসকুড়ি ও লালচেভাব দূর করে। নিমের সঙ্গে মধুর মিশ্রণে প্যাক সৌন্দর্য ধরে রাখে। ত্বকের সজীবতা ফিরিয়ে দেয়।
জাফরান
সৌন্দর্য চর্চায় সেই রাজা বাদশাদের সময় থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে জাফরান। মসলার মধ্যে অনেক দামি এটি। প্রাচীনকালে রানি-রাজকন্যারা এই প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতেন রূপচর্চায়। জাফরান ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বলিরেখা, ব্রণের দাগ, রোদে পোড়া দাগ দূর করে থাকে। এখন অনেক ভালো ব্রান্ডের ক্রিমেও জাফরানের নাম উল্লেখ থাকে।
আমলা
আমলা হচ্ছে বৈঁচি জাতীয় ফল। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। চুলের জন্য আমলার তেল অসাধারণ কাজ করে। অনেক প্রসাধনী কোম্পানিও এই তেল বাজারে ছেড়ে থাকে।
মুলতানি মাটি
মুলতানি মাটির রয়েছে অনেক গুণ। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসাবে ব্যবহার করা হয়। মুলতানি মাটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে। এই মাটি ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে, ব্রণের দাগ দূর করে এবং ব্রণও দূর করে। ত্বকের টোনকে আরও হালকা করে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
হলুদ
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য, শুষ্ক ত্বকের জন্য, বলিরেখা দূর করতে, চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে, বয়স ধরে রাখতে, ত্বকের রোদে পোড়া দূর করতে, পায়ের গোড়ালির ফাটা দাগ দূর করতে, ত্বকের মরা কোষ দূর করতে হলুদ, ত্বককে ফর্সা করতে, ব্রণ দূর করতে হলুদের জুড়ি নেই।
চন্দন
সৌন্দর্য চর্চায় চন্দনের গুনাগুণ জগৎ স্বীকৃত। এ ছাড়া এর আছে বহু ঔষধি গুণ। প্রাচীনকালে রূপ চর্চার অন্যতম একটি উপাদান ছিল চন্দন। বিভিন্ন রকম কসমেটিকস ও সুগন্ধীতে চন্দন ব্যবহৃত হয়। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় চন্দন বেশ উপকারী। এতে আছে অ্যান্টিব্যকটেরিয়াল উপাদান যা ব্রণ ও ত্বকের অন্যান্য সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
তুলসী
তুলসীর আয়ুর্বেদিক গুণাগুণ বেশি। তবে ত্বকের যত্নেও কিন্তু তুলসী পাতা ভীষণ উপকারী। এতে আছে উপকারী এনজাইম, ভিটামিন সি এবং আরও সব উপকারী উপাদান। যা আমাদের ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ত্বকের ইলাস্টিসিটির উন্নতি ঘটায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা বাড়তে থাকে।
দই
টক দই ত্বকের তৈলাক্ত দূর করে মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে। রোদে পোড়া ত্বক ঠিক করতে টক দই খুব ভালো কাজ দেয়। এটিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের ভাঁজ ও দাগ দূর করে। দাগ ছোপহীন উজ্জ্বল ত্বক পেতে এই উপাদানের ভূমিকা অসাধারণ।
