হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগে দক্ষিণ ভারতে ক্ষোভ

আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ০৯:৫৭ এএম

নতুন শিক্ষানীতি চালু করে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার।

শুক্রবারই মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক। তার হাতে নতুন শিক্ষানীতির খসড়া জমা পড়েছে। এতে স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হিন্দি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আনন্দবাজার জানায়, খসড়া শিক্ষানীতিতে হিন্দি বাধ্যতামূলক করার প্রতিবাদে সরব হয়েছে দক্ষিণের রাজ্যগুলো। এনিয়ে ফের ভাষাযুদ্ধ শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওই অঞ্চলের নেতারা।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিক এডিএমকে এবং পিএমকে জানিয়েছে, অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোর ওপর জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হলে দেশের বহুত্ববাদী চিন্তাধারায় আঘাত লাগবে।

তামিলনাড়ুর এডিএমকে সরকারের শিক্ষামন্ত্রী কেএ সেঙ্গোত্তাইয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কেন্দ্রের এই নীতি মানবেন না।

কেন্দ্রের শিক্ষানীতির খসড়ায় স্কুলে তিনটি ভাষা শেখানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেঙ্গোত্তাইয়ান বলছেন, “তামিলনাড়ু দুটি ভাষার নীতি নিয়েই চলবে। শুধু তামিল ও ইংরেজিই শেখানো হবে।”

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ই পলানিস্বামী প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখছেন। ডিএমকে নেতা এমকে স্ট্যালিন বিজেপিকে বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এমডিএমকে নেতা ভাইকোর হুমকি, ফের ভাষাযুদ্ধ শুরু হবে।

কমল হাসানের বক্তব্য, “আমি নিজে হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছি। কিন্তু হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।”

টুইটারে #StopHindiImposition আন্দোলনও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, শিক্ষায় গৈরিকীকরণের লক্ষ্যে সংঘ পরিবারের বরাবরের কৌশল- ‘হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান’। নয়া শিক্ষানীতির খসড়ায় তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।

প্রাক্তন ইসরো চেয়ারম্যান কে কস্তুরীরঙ্গন কমিটির তৈরি খসড়া অনুযায়ী, স্কুল শিক্ষায় তিনটি ভাষা শেখানো প্রয়োজন। হিন্দিভাষী রাজ্যে হিন্দি ও ইংরেজির পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা যে কোনো ভাষা বেছে নিতে পারে। অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে হিন্দি, ইংরেজির সঙ্গে ছাত্রছাত্রীরা একটি আঞ্চলিক ভাষা শিখতে পারে। এতে তামিলনাড়ু, অন্ধ্র, কেরালার মতো রাজ্যেও হিন্দি শেখা বাধ্যতামূলক হবে।

ভারতের স্বাধীনতার আগেও তামিলনাড়ুতে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে। স্বাধীনতার পরেও তা থামেনি। ১৯৬৫ সালে হিন্দি-বিরোধী আন্দোলন সংঘর্ষের চেহারা নেয়। এর রেশ ছড়ায় আরও তিন দক্ষিণী রাজ্য তৎকালীন অন্ধ্রপ্রদেশ, মাইশোর এবং কেরালায়।

জানুয়ারিতেই গুঞ্জন ছড়ায়, নতুন শিক্ষানীতিতে এমন সুপারিশই থাকবে। কিন্তু তখনকার মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর তা উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

কিন্তু এবার খসড়া শিক্ষানীতিতে দেখা যাচ্ছে, সেটাই বাস্তব। যদিও বর্তমান মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী নিশঙ্ক এবং জাভড়েকর বলেছেন, এটা শুধুই খসড়া। মোদি সরকার সব ভারতীয় ভাষার বিকাশের পক্ষে। তাই হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা ঠিক নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত