দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বে ছেড়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে টার্মিনালে ভাঙচুর চালিয়েছেন যাত্রীরা।
রোববার সকাল ১০টার দিকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল এলাকায় এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রোববার ভোর ৪টা ৩০ মিনিটের সিলেটগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়ে পড়ে। এ ছাড়া সৈয়দপুরগামী ফ্লাইট বিজি ৪৯৩, বিজি ৪৯৪ দুপুর ১টায়, বিজি ৪৯৫ ও বিজি ৪৯৬ সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে এবং যশোরগামী বিজি ৪৬৫ ও বিজি ৪৬৬ ফ্লাইটের যাত্রা বিকেল ৪টায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার স্টাফ ফটোগ্রাফার জাকি জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার ফ্লাইট ভোর সাড়ে ৪টায় ছিল। সেই ফ্লাইট ৭ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে। দুপুরে গিয়ে সিলেটে পৌঁছেছি।
তিনি বলেন, আমার পাশেই সৈয়দপুরের দুজন যাত্রী ছিলেন। তাদের ফ্লাইটও বিলম্বিত হয়েছে। কিন্তু কাউন্টারে দায়িত্বশীল কেউ ছিল না। এজন্য তারা কাউন্টারে ভাঙচুর করে প্রতিবাদ করেছে।
জাকি জামান বলেন, “পরে প্রতিবাদকারীদের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পুলিশ নিয়ে গেছে। তাদের কী অবস্থা আল্লাহ জানে। আমার ফ্লাইট ছেড়ে দিচ্ছিল দেখে চলে আসছি।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের সিলেটের ফ্লাইট সাত ঘণ্টা বিলম্ব হলে কাউন্টারে গিয়ে জানতে চেয়েছিলাম। কাউন্টারে বিমানের দায়িত্বরত লোকদের ব্যবহার খুবই খারাপ। তাদের সঙ্গে আমাদেরও তর্ক হয়েছে।”
বিমানের এই যাত্রী আরও বলেন, “আমাদের কাউন্টারে একজন বিলম্বের কারণ জানতে চেয়েছিলেন। তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে স্টাফরা বলেন, পাইলটকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন। আমি বললাম, পাইলটকে কেন জিজ্ঞাসা করব? আপনি এখানে কী করতে আছেন।”
তিনি জানান, এই তর্কের পরে কাউন্টার থেকে বিমানের লোকজন চলে গেছে। এরপর তথ্য জানার জন্যও কেউ ছিল না। পরে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে কাউন্টারের চেয়ার ভেঙেছে।
বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ডিউটি অফিসার তানভীর জানান, সিলেটগামী বিজি ৬০১ বিমানটি নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে না যাওয়ায় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে বাংলাদেশ বিমানের কাউন্টারে ভাঙচুর করেন।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জি এম (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইটের সময় পরিবর্তন হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা সবার আগে।কাউন্টার ভাঙচুর করা ঠিক হয়নি।”
