নেত্রকোনায় পরকীয়া প্রেমের প্রতিবাদ করায় প্রতিবেশীর ছুরিকাঘাতে নেত্রকোনায় শাহিনুর নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ খুন হওয়ার মামলা এজাহারভুক্ত আসামি মো. এরশাদ মিয়া (২৮) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ। সে জেলার উত্তর সাতপাই এলাকার মো. কিতাব আলীর ছেলে।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার সময় ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানা এলাকায় তার মামার বাড়ি হতে এরশাদকে আটক করা হয়েছে। তবে মূল আসামিকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৪ সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ এর উপ-পরিচালক কোম্পানি অধিনায়ক লে. কমান্ডার (বিএন) এম শোভন খান জানান, গত ১৮ মে রাত ২ টায় নেত্রকোনা জেলা সদর থানার সাতপাই রেল কলোনি এলাকায় পরকীয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করায় শাহিনুর আক্তার (২৬) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এই ঘটনায় নেত্রকোনা সদর থানায় হত্যা মামলা রুজু হলে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টায় ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানা এলাকা হতে নেত্রকোনার সদর থানার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. এরশাদ মিয়াকে র্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প এর একটি আভিযানিক দল গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি খুনের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এজাহারভুক্ত অন্যান্য পলাতক আসামিদের আটকের জন্য র্যাবের অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।
মামলাটি বর্তমানে ডিবি পুলিশের তদন্তনাধীন রয়েছে এবং মূল আসামিকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানান নেত্রকোনার ডিবি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর-ই-আলম।
উল্লেখ্য, নেত্রকোনা রেল কলোনি এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া ও অর্জুন মিয়ার বিবাহিত কন্যার সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ ঘটনায় গত ১৭ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় পরকীয়ার বিষয়টি প্রত্যক্ষদর্শী সালাম মিয়ার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শাহিনূরসহ স্থানীয়রা প্রতিবাদ করে। পরবর্তীতে সেহরীর সময় টিউবওয়েলে গেলে ক্ষিপ্ত সোহেল মিয়া, এরশাদ, বোরহান, বাবুসহ বেশকজন শাহিনুরকে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শাহিনুরকে মৃত ঘোষণা করেন।
