কথিত উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে সত্যিকারের গণতন্ত্রে উত্তীর্ণ হতে অনেকটা সময় লাগে। গণতন্ত্রে উত্তরণের এই পথ কখনো সমান্তরাল, কখনো আঁকাবাঁকা। ভারতের গণতান্ত্রিক উত্তরণের সব সম্ভাবনাকে জিইয়ে রেখে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসেছে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর গণতন্ত্রের সমস্যা বহুবিধ। এর মধ্যে তিনটি মূল সমস্যা যা গণতন্ত্রকে তার নিজস্ব কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়। প্রথমত ভোটারদের মান, দ্বিতীয়ত ত্রুটিযুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং তৃতীয়ত রাজনৈতিক পরিবেশ। এই তিনটি বিষয় ঠিকঠাক থাকলে আর যাই হোক, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংস হয় না।
বিজেপিকে যেসব ভারতীয় ভোট দেয়নি তাদের নতুন রাজনৈতিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে। সে ক্ষেত্রে তারা হয় তাদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থাকে নতুন অথবা পুরাতন পদ্ধতিতে পাল্টাবেন, নয়তো প্রতিক্রিয়াশীলতার মধ্য দিয়ে যাবেন।
যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল বিজেপি। এতে তারা সক্ষমও হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে মোদি তার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের চেষ্টা করবেন, যা তিনি ২০১৪ সালে করেছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিবিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এমন অবস্থায় ভারতের বিরোধী দলগুলোর উচিত হবে না নতুন সরকারের সঙ্গে শুরু থেকেই বৈরিতার সূচনা করা। মোদির জন্য ভারতের অর্থনীতি চাঙ্গা করা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ। আর মোদি যে সেই চেষ্টা করবেন তা তার নতুন বেশকিছু পদক্ষেপে বোঝা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক পর্যায়ে মোদি হয়তো পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারেন। কাশ্মীরে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ছাড়াই শান্তি প্রতিষ্ঠায় কিছু বাস্তবিক পরিবর্তন আসতে পারে। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে এবং অপেক্ষা করবে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মোদির এনআরসি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জটিলতার দিকে।
ভারতের বিরুদ্ধে চীনের এক ধরনের প্রপাগান্ডা জারি আছে আগের মতো। কিন্তু মোদি তার ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতিতে অটল থাকলে ভারতের অভ্যন্তর ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে। আর এতে আঞ্চলিক শক্তিশালী প্রতিনিধি হিসেবে মাথাচাড়া দিতে পারবে ভারত। চীন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য এবং ভূরাজনীতির প্রশ্নে ভারত সাগরের আধিপত্য ধরে রাখতে চাইবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের অর্থনীতির বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হলেও, দিল্লির কাছে অস্ত্র বিক্রিতে পিছপা হবেন না তিনি। কারণ দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী চীন।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে নতুন মোদি সরকারের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ আছে ভারতের।
