চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় উপকারভোগী এবং বন বিভাগের ভাগাভাগির পরিকল্পনায় গড়ে তোলা সামাজিক বনায়নের অংশীদারিত্বের প্রকল্প অনেকটা ভেস্তে গেছে। সময় উত্তীর্ণ হতে চললেও সামাজিক বনায়নের সাফল্যের দেখা মেলেনি চট্টগ্রাম বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের কোদালাসহ বিভিন্ন বন বিট এলাকায়।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ ২০০০ সালে সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতায় কোদালা বন বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জঙ্গল নিচিন্তাপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় শতাধিক বাগান সৃজন করে। সেগুন, গামারি, আকাশমণিসহ নানা প্রজাতির বনজ গাছ রোপণ করা হয় এখানে। সামাজিক বনায়নের পাশাপাশি বিস্তীর্ণ বনভূমি ঘিরে এখানে রয়েছে শেখ রাসেল এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্ক। উভয়ের অবস্থানে সবুজ বনানীর প্রাকৃতিক দৃশ্য আরও বেশি মুগ্ধকর ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার কথা হলেও সামাজিক বনায়নের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা হয়ে উঠেনি।
এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, কোদালা বন বিটের আওতায় সংরক্ষিত এবং রক্ষিত মিলে সর্বমোট ৩ হাজার ৩০০ একর বনাঞ্চল রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২২০ একরে ৪২২ প্লটে সামাজিক বনায়ন করা হয়। কিন্তু উপকারভোগীরাই অনেক ক্ষেত্রে বাগানের গাছ পাচার করে বন উজাড় করেছে।
সামাজিক বনায়নের প্রকল্পগুলোতে এখন বৃক্ষ নেই। পরিপক্ব হয়ে ওঠার আগেই বনায়ন প্রকল্পের গাছ চলে গেছে ইটভাঁটায় জ্বালানি হয়ে। সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের ন্যাড়া পাহাড় ও ভূমিতে এখন গড়ে উঠছে অবৈধ ঘরবাড়ি ও নানা স্থাপনা। একশ্রেণির লোকজন জবরদখল করে বনভূমি নিয়ে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। ব্যাপক জবরদখল এবং বনভূমির অপব্যবহার চললেও যেন দেখার কেউ নেই। বরং অপব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে বনরক্ষীদের। পার্কের প্রবেশ পথে বন ও পাহাড় কেটে অবাধে গড়ে উঠেছে দোকানপাট। নিকটস্থ সেগুন বাগানের গাছ ও পাহাড় উজাড় করে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ দখলদারিত্ব।
দেখা গেছে, বাগানের গাছ কেটে এবং পাহাড় ন্যাড়া করে দ্রুত গড়ে উঠছে ঘরবাড়ি। কোদালা বন বিট কার্যালয়ের পাশে সেগুন বাগানে পাহাড়ের মাটি কেটে সমতল করে গড়ে তোলা হচ্ছে আবাসিক প্লট।
কোদালা বন বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুনর রশিদ জানান, কোদালার সরকারি বনাঞ্চলে অবৈধভাবে দখলকারীদের বিরুদ্ধে দুই হাজারেরও বেশি মামলা রয়েছে। বন অধিদপ্তরের প্রধান সংরক্ষক সফিউল আলম চৌধুরী বলেন, বন বিভাগের জমিতে দখলদারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চলবে।
