যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি চীনা কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রিতে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা মেনে চললে মার্কিন বৃহদাকার ও অন্যান্য দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে চীন। চলতি সপ্তাহে কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের তলব করে চীন এ হুঁশিয়ারি দেয় বলে বৈঠকের সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো জানিয়েছে। তাদের বরাত দিয়ে গতকাল শনিবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
‘অবিশ্বস্ত’ কোম্পানি ও ব্যক্তির তালিকা সংকলনের কথা জানিয়েছিল চীন। এই ঘোষণার পর গত মঙ্গল ও বুধবার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দেশটির কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। চীনের ওই তালিকাকে বড় পরিসরে দেশটির ইলেকট্রনিক জায়ান্ট হুয়াওয়ের কাছে মার্কিন প্রযুক্তি বিক্রি বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে বাণিজ্যের গোপন বিষয়াদি চুরি ও পেইচিংয়ের হয়ে নজরদারি চালানোর অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র। হুয়াওয়ে সেই সব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দুই সপ্তাহ ধরে অর্থনৈতিক হুমকি-ধমকির মধ্যে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পেইচিংয়ের বৈঠকের বিষয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন। তাদের এ বিষয়ে কথা বলার এখতিয়ার ছিল না। তারা জানান, চীনা কর্মকর্তাদের তলব করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিকনডাক্টর প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কিছু বৃহদাকার প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান তথা টেক জায়ান্ট ছিল।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্কে বিপজ্জনক বিভেদে বিশ্বজুড়ে কোম্পানি ও সরকারগুলো ধুঁকছে। এ যুদ্ধে এরই মধ্যে সংকটে পড়েছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। গত মাসে হুয়াওয়ের ওপর আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা অনেককে হতবাক করে। এর মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি নিয়ে চীনের দীর্ঘমেয়াদি উচ্চাভিলাষের প্রাণকেন্দ্রে আঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে দুই পরাক্রমশালী রাষ্ট্র দৃশ্যত একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অস্ত্রকে কাজে লাগাচ্ছে। বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্কে এমন এক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যাতে বিশ্বের দুই পরাশক্তি পরস্পরের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তারা একে অন্যের প্রযুক্তি ও অন্যান্য সম্পদ ব্যবহার বন্ধের চেষ্টা করবে।
দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও চীনের অর্থনৈতিক নীতিবিষয়ক গবেষক স্কট কেনেডি বলেন, ‘বর্তমানে এটি চূড়ান্ত পর্যায়ের ভঙ্গুর। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন হুমকি কৌশলের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য বিষয়সহ গোটা সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।’
চলতি সপ্তাহে বৈঠকগুলোতে চীনের প্রতিনিধিদলে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সংস্থা, জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন, বাণিজ্য, শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে দুজন জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ওই কর্মকর্তারা চীনে পণ্য রপ্তানি করা বিপুলসংখ্যক কোম্পানিকে তাদের অবস্থান জানান।
