গাজীপুরে যাত্রী হত্যা: নদীতে ঝাঁপ দিয়ে চালককে গ্রেপ্তার

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ০৮:০৫ পিএম

বাস ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডার জেরে গাজীপুর সদরের বাঘের বাজার এলাকায় বাস থেকে ফেলে এক যাত্রীকে চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর সোমবার পালিয়ে যাওয়ার পথে ‘আলম এশিয়া’ বাসের চালককে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে জয়দেবপুর থানা পুলিশ।

ওই বাস চালকের নাম রোকন উদ্দিন (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার লতিফপুর নয়াপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে।

সোমবার বিকেলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার সামসুন্নাহার তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংএ এ তথ্য জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়দেবপুর থানার এসআই আব্দুর রহমান জানান, রবিবার সকালে আলম এশিয়া পরিবহনের এক যাত্রীকে বাস থেকে ফেলে চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর বাসের চালক ও সহকারীদের আসামি করে জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

চালক ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। ঘটনার পর বাসচালক রোকন উদ্দিন তার মা’কে নিয়ে ময়মনসিংহের ধোবাউরা ও হালুয়াঘাট থানার সীমান্ত এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান নেয়। পরে সোমবার দুপুরে ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযানে যায়।

এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রোকন উদ্দিন গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য কংস নদীতে ঝাঁপ দেয়। পুলিশও পিছু পিছু কংস নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। আর মা কৌশলে আত্মগোপন করে পালিয়ে যান। যাত্রী সালাহ উদ্দিন হত্যার ঘটনায় জড়িত বাসের অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, নিহত বাস যাত্রী সালাহ উদ্দিন (৩৫), স্থানীয় আতাউর রহমান মেম্বার বাড়িতে ভাড়া থেকে ‘স্কটেক্স এ্যাপারেলস’ নামের পোশাক কারখানার গাড়ি চালাতেন। তিনি ঢাকার আলু বাজার এলাকার মৃত শাহাব উদ্দিনের ছেলে।

নিহতের স্ত্রী পারুল আক্তার জানান, গত শুক্রবার ঈদের ছুটিতে স্বামীকে নিয়ে ময়মনসিংহের বাবার বাড়ি যান। রবিবার সকালে স্বামীকে নিয়ে গাজীপুরের সদর উপজেলার বাঘের বাজারের ভাড়া বাড়িতে ফিরতে ময়মনসিংহ থেকে ‘আলম এশিয়া’ নামের একটি বাসে উঠেন। পথে বাসের ভাড়া নিয়ে স্বামীর সাথে বাসের সহকারীদের বাদবিতণ্ডা হয়। বাদবিতণ্ডা ঘটনাটি মুঠোফোনে বাঘের বাজার এলাকার স্বজনদের অবহিত করেন। বাসটি বাঘের বাজারে পৌঁছলে অসুস্থ সালাহ্ উদ্দিনকে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়।

এক পর্যায়ে বাসটির চালক সালাহ উদ্দিনকে চাকার নীচে পিষে বাসে থাকা সালাহ উদ্দিনের স্ত্রীকে নিয়ে দ্রুতগতিতে বাসটি নিয়ে ঢাকার দিতে যেতে থাকে। এসময় একটি গাড়ি ওই বাসটির গতিরোধ করলে আমতলী এলাকায় স্ত্রী পারুলকেও ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেয়। পরে ফুওয়াং কারখানার সামনে বাস রেখে চালক ও সহকারীরা পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশের সহায়তায় হাইওয়ে পুলিশ বাসটি আটক করে। পরে নিহতের ভাই জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে ‘আলম এশিয়া’ পরিবহনের চালক ও তার সহকারীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত