ফেনীর আলোচিত ভিক্ষুক দম্পতি আমেনা-আবু বক্কর জুটির আমেনা আক্তার মারা গেছেন। গত ৫ জুন ঈদুল ফিতরের দিন তিনি মারা যান। মানসিক ভারসাম্যহীন এই ভিক্ষুক দম্পতি ফেনী শহরের বাসিন্দাদের কাছে ‘রোমিও-জুলিয়েট’ নামে খ্যাত ছিলেন। কিছুদিন আগে এই জুটির সাড়ে সাত মাস বয়সী মেয়েটিও মারা যায়। আমেনাকে পৌর কবরস্থানে তার মেয়ে রাণীর পাশে দাফন করা হয়েছে।
‘রোমিও জুলিয়েট’ নামে পরিচিত এই ভিক্ষুক দম্পতি ফেনী শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ভিক্ষা করতেন। আবার রাতে ঘুমাতেনও রাস্তায়। অযত্ন-অবহেলায় মারা যায় তাদের একমাত্র সন্তান। এখন স্ত্রী জুলিয়েট (আমেনা) মারা যাওয়ার পর ভিক্ষা করা বাদ দিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে চান রোমিও (আবু বক্কর সিদ্দিক)।
রোমিও-জুলিয়েটের ঘর বলতে ছিল শহরের বিভিন্ন দোকানের সামনের অতিরিক্ত ছাউনি। গত তিন বছর ধরে ফেনীতে বসবাস করছেন তারা। ফেনীতে দুজন যখন প্রথম আসেন তাদের সঙ্গে এক মেয়ে শিশু ছিল। তাদের সেই প্রথম সন্তানটি বছর দুয়েক আগে চুরি হয়ে যায়। পরে ২০১৭ সালের ১৫ মে তাদের মেয়ে রানির জন্ম হয়। রাস্তার পাশে ভূমিষ্ট হয়েছিল রানি। ওইদিন তাদের দেখতে স্থানীয়রা জটলা করেছিলেন। আদর করে তারা মেয়ের নাম দিয়েছিলেন আনিসা আক্তার রানি। অসুস্থ অবস্থায় রানিকে হাসপাতালে ভর্তি করান ফেনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম। গত ২৫ ডিসেম্বর ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রানির মৃত্যু হয়।
রানি মারা গেলে মৃত শিশুটিকে কোল থেকে নামাতে চাচ্ছিলেন না মা আমেনা। বারবার কেঁদে উঠছিলেন। রানিকে কবর দেওয়ার সময় সিদ্দীক বারবার অনুরোধ করছিলেন তার সন্তাকে যেন দেখে রাখা হয়।
ফেনী পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাহতাব উদ্দিন মুন্না জানান, স্ত্রী জুলিয়েট মারা যাওয়ার পর তিনি নিজ উদ্যোগে রোমিওকে সেলুনে নিয়ে গিয়ে তার চুল কেটে দেন। পরে তাকে ভালভাবে গোসল করান এবং নতুন জামা-কাপড় কিনে দেন। রোমিও সুস্থ জীবনে ফিরতে তার কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান কাউন্সিলর মাহতাব।
তিনি বলেন, ‘সে এখন রিকসা অথবা ভ্যানগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে চায়। আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে রোমিও যেন সুস্থ মানুষ হিসাবে সমাজে বসবাস করতে পারে সেজন্য সবার কাছে দোয়া এবং সহযোগিতা কামনা করছে।’
