বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে চিকিৎসকদের আন্দোলনের মধ্যেই নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার ছিল মৌখিক পরীক্ষার প্রথম দিন। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উপাচার্যের কক্ষে ৩৫ জনের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ পরীক্ষা চলবে আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত।
গতকাল পরীক্ষা চলাকালীন আন্দোলনরত চিকিৎসকদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কয়েকবার প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে চিকিৎসকদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ ও বিশ^বিদ্যালয় আনসারদের মারমুখী আচরণের কারণে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন চিকিৎসকরা। রবিবার রাত থেকেই ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের রবিবার রাতে এ-ব্লকের হলেও থাকতে দেওয়া হয়নি। তবে চিকিৎসকরা ক্যাম্পাসের বাইরে কিছুক্ষণের জন্য অবস্থান নিয়েছিলেন এবং পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে আন্দোলনরত চিকিৎসক মাঈদুল হাসান শিপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত রবিবার রাত ৯টার দিকে অনশনরত অবস্থায় পুলিশ আমাদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। ব্যানার কেড়ে নেয়। অনেককে এ-ব্লকের হলেও থাকতে দেয়নি। গতকাল সকালে বিশ^বিদ্যালয়ের বটতলায় জড়ো হতে চাইলে পুলিশ ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। বেলা ১১টার দিকে বি-ব্লকে উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে চাইলে পুলিশ ঢুকতে দেয়নি। পুলিশ নগ্নভাবে প্রশাসনের অনিয়মকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। অথচ ভিসি বলেছিলেন আদালতে আমাদের করা মামলার শুনানির পর মৌখিক পরীক্ষা নেবেন। সেটা না করে আজ (গতকাল) থেকেই পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছেন।
বিশ^বিদ্যালয় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মৌখিক পরীক্ষা সুন্দরভাবে শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের পরীক্ষা ভালোই হয়েছে। কোনো সমস্যা হয়নি। সবাই উপস্থিত ছিলেন। প্রথম ব্যাচে ৩০ জন ও পরের ব্যাচে ২০ জন। বিশ^বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কর্মকা-ে যাতে কোনো বিঘœ না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। তারা ক্যাম্পাসে ছিল।
চিকিৎসকদের আন্দোলনের ব্যাপারে উপাচার্য বলেন, এটা অযৌক্তিক। এই আন্দোলনের কোনো ভিত্তি নেই। নিয়ম মেনেই নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয়েছে। এখন মৌখিক পরীক্ষা চলছে। যারা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি তারা ক্ষোভ থেকে এসব করছেন।
মৌখিক পরীক্ষায়ও অনিয়মের আশঙ্কা করছেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। এ ব্যাপারে ডা. মাঈদুল হাসান শিপন বলেন, মৌখিক পরীক্ষা লোকদেখানো। প্রশাসনের তালিকাভুক্তরাই উত্তীর্ণ হবেন। এমনকি আমাদের আন্দোলনে যেসব লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চিকিৎসক রয়েছেন, তাদের বাদ দেওয়া হবে।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন আন্দোলনরত এমন এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা সবাই ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করতাম। এখন স্বাচিপের (আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ) সঙ্গে যুক্ত। আমরাও চাই না দলীয়ভাবে নিয়োগ হোক। নিয়ম মেনে পরীক্ষা হলে আমাদের অনেকেই উত্তীর্ণ হতো। কিন্তু বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন তা করেনি। উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীকে উত্তীর্ণদের যে তালিকা দিয়েছেন, সেখানে আগেই দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এখানে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের বাইরেও বিভিন্ন দপ্তরের প্রভাবশালী লোকজনের আত্মীয়স্বজনরা রয়েছেন। সুতরাং সবাই মিলে একযোগে এই নিয়োগ দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন। আমরা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
গত ২০ মার্চ বিএসএমএমইউতে ২০০ চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষার ফল মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রকাশিত হয়। ১৮০ জন মেডিকেল অফিসার ও ২০ জন ডেন্টাল চিকিৎসক পদে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৮ হাজার ৫৫৭ জন চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় এক পদের জন্য চারজন পাস করেন। এ হিসাবে ৭৩৯ জন মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টালের ৮১ জন মিলে মোট ৮২০ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ফল ঘোষণার পর থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছেন চিকিৎসকরা।
