ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৮ জুন। প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। এদিকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিমা মুকাই আলী গানম্যান নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন।
এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তানভীর ভূইয়া (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিমা মুকাই আলী (ঘোড়া), সৈয়দ মাঈনুদ্দিন আহমেদ (আনারস) ও মোসাহেদ হোসেন (দোয়াত-কলম)।
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার সময় নাছিমা মুকাই আলী ব্যক্তিগত গানম্যান সঙ্গে রাখায় ভোটের মাঠে আলোচনা-সমালোচনায় উঠে এসেছেন। সর্বশেষ গত রবিবার (৯ জুন) নাছিমা মুকাই ব্যক্তিগত গানম্যান শামীম মিয়াকে নিয়ে বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে প্রচারণা চালাতে যান। সেখান থেকে বিজয়নগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম মশিউজ্জামান লাইসেন্সকৃত অস্ত্রসহ গানম্যান শামীমকে আটক করেন।
গানম্যান নিয়ে প্রচারণা চালানোর বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির বিজয়নগর উপজেলা শাখার সম্পাদক দীপক চৌধুরী বাপ্পী জানান, জনগণের ওপর যদি ওনার (নাছিমা) আস্থা না থাকে, তাহলে উনি কীভাবে জনপ্রতিনিধি হবেন? নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গানম্যান নিয়ে ঘুরাঘুরি নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন।
বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা বলেন, স্বতন্ত্রপ্রার্থী নাছিমা শুরু থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। মাইক্রোবাস আর মোটরসাইকেল বহরে এখন তিনি গানম্যান নিয়ে প্রচারণায় যাচ্ছেন। এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাছাড়া বিজয়নগরের সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত।
তবে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছিমা মুকাই আলী বলেন, ‘আমাকে মেরে ফেলার জন্য কতগুলো ষড়যন্ত্র করা হলো। গাড়ি পোড়াল, গাড়ি ভাঙল। হয় আমাকে পুলিশ দেবে, নয়তো গানম্যান রাখার অনুমতি দেবে।’ বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মেহের নিগার জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিমাকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
