দুই মাসের বকেয়া বিলের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় একটি খামারের ৯৩০ টি মুরগি মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন খামারি জিয়াউল হক।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় আমি খামারে ছিলাম না। আধঘণ্টা সময় চেয়ে আমি মোবাইল ফোনে বিদ্যুৎকর্মীর কাছে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি অনুরোধ রাখেননি। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় প্রচণ্ড গরমে খামারের ৯৩০টি মুরগি মারা গেছে। এ কারণে আমার পথে বসার উপক্রম হয়েছে।’ জিয়াউল হক এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়াউল হক উপজেলার চন্দরপুরে একটি মুরগির খামার করেছেন। লোকসানের কারণে খামারের গত দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। গত বুধবার পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান লোকমান আহমদ খামারে গিয়ে বকেয়া বিলের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। অভিযোগে জিয়াউল হক বলেছেন, ‘ওই সময় আমি মোবাইল ফোনে তার কাছে কিছু সময় চেয়ে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমার অনুরোধ রক্ষা করেননি।’
জিয়াউল হক আরও বলেছেন, ‘কিছুদিন আগে আমার বাড়িতে বিদ্যুতের নতুন মিটার নিতে চেয়েছিলাম। ওই সময় লোকমান আহমদ আমার কাছে ঘুষ দাবি করেছিলেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার বিরোধ হয়েছিল। এই বিরোধের জেরে তিনি প্রতিহিংসাবশত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আমার খামারের মুরগি মেরেছেন।’
এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ওই খামার পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে কিছু সময় দেওয়া উচিত ছিল।’
খামার পরিদর্শনকারী গোলাপগঞ্জ থানার এসআই বাপ্পী রুদ্র পাল বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে আমি খামারটি পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
অভিযুক্ত লাইনম্যান লোকমান আহমদ বলেন, ‘বকেয়া বিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। তবে এখানে খামার ছিল বলে আমার জানা নেই।’ খামারি জিয়াউল হকের অনুরোধের বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য উপজেলাজুড়ে দুই দিন মাইকিং করা হয়। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খেলাপি গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউল হক নামের গ্রাহকের দোকানের ছাদের উপর মুরগির খামার ছিল বলে আমাদের জানা নেই। আমরা ওই দোকানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি, খামারের নয়।’
