অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) জালিয়াতি করে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নেপথ্যে ইউক্রেনের আরও তিন নাগরিকের তথ্য পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এ নিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রটির সদস্য হিসেবে দেশটির ১০ নাগরিকের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হলেও বাকিরা পালিয়ে গেছেন। প্রথম দফায় তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানতে পেরেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কর্মকর্তারা। এদিকে গতকাল শনিবার আদালত ওই ছয়জনকে আরও চার দিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। আগামী ১৮ জুন থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে ডিবি। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটিএমের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৯টি বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করে জালিয়াত চক্রের বিদেশি সদস্যরা। বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই জালিয়াতি ঘটায় তারা। ডিবির খিলগাঁও জোনাল টিমের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েছি, ব্যাংকের এটিএম বুথ কম্প্রোমাইজ করেই তারা টাকা উত্তোলন করেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক দক্ষ কর্মকর্তারাও বিশেষ কায়দায় এই বুথ হ্যাক করে টাকা উত্তোলন করার বিষয়ে মত দিয়েছেন।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিজ্ঞাসাবাদকারী এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে ইউক্রেনের ১৭৩ নাগরিক ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসেছিলেন, যাদের ৭৪ জন এরমধ্যে দেশ থেকে চলে গেছেন। এদের মধ্যে অন্তত তিনজন এই জালিয়াত চক্রের সদস্য। এ ছাড়া বাংলাদেশে আত্মগোপনে থাকা আরেকজনকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহিদুর রহমান রিপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে, শিগগির এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।’
ডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটিএম বুথের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৯টি বুথের টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করলেও ওই টাকা এখনো উদ্ধার করা যায়নি। গ্রেপ্তার ছয়জনই তুলে নেওয়া টাকা পলাতক আসামির কাছে আছে বলে দাবি করেছে। তাকে গ্রেপ্তারে বিমানবন্দর, সীমান্তবর্তী এলাকাসহ ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
গত ২৪ মে রাতে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বাড্ডা এলাকার দুটি এটিএম বুথ থেকে দুই বিদেশি নাগরিক একাধিকবার টাকা উত্তোলন করেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, টাকা উত্তোলনের সময় মুখোশ দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করেছেন তারা, চোখে ছিল সানগ্লাস, মাথায় টুপি। একই চক্রের সদস্যরা খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কেটের সামনের একই ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তোলার সময় দেনিস ভিতোমস্কি নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেন থেকে বাকি পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন, নাজারি ভজনোক (১৯), ভালেনতিন সোকোলোভস্কি (৩৭), সের্গেই উইক্রাইনেৎস (৩৩), শেভচুক আলেগ (৪৬) ও ভালোদিমির ত্রিশেনস্কি (৩৭)।
