জয়পুরহাট জেলা পুলিশ লাইনের রিজার্ভ অফিসের পুলিশ ইন্সপেক্টর সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম পক্ষের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুনকে(৪০) নির্যাতন ও তার বিনা অনুমতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ইন্সপেক্টর সাইদুর রহমান বর্তমানে জয়পুরহাট জেলা পুলিশ লাইনের রিজার্ভ অফিসে (আরওআই) পদে কর্মরত আছেন।
আম্বিয়া খাতুনের বাবা আবুল হোসেন বলেন, ‘১৯৯৭ সালের ৩০ জুলাই সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুরাবিনোদ ইউনিয়নের দীঘিসগুনা গ্রামের মৃত কোরবান মোল্লার ছেলে তৎকালীন পুলিশ কনস্টেবল সাইদুর রহমানের সাথে তাড়াশ পৌর সদরের বাজারপাড়া মহল্লার আবুল হোসেনের মেয়ে আম্বিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কন্যা জামাতা সাইদুর রহমানের পরিবারের দাবী অনুযায়ী ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ১টি মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র সহ প্রায় ৩ লাখ টাকার উপহার সামগ্রী প্রদান করি। তারপরও বিয়ের কিছুদিন পর থেকে আরো যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে জামাতা সাইদুর রহমান ও তার দুই ভাই। মেয়ের সুখের কথা ভেবে আবারও ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা যৌতুক দিই।’
‘জামাতা সাইদুর রহমান ২০১৬ সালে পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে আবারও ৫ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য প্রায়ই আমার মেয়ে আম্বিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। পরে গোপনে ২০১৩ সালে সাইদুর রহমান রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামের ফারহানা খাতুন ইতি নামের এক মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করে।’
‘দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই নানা অজুহাতে আমার মেয়ে আম্বিয়া ও তার একমাত্র মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে সাদিয়া সিমিকে (১৪) শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আম্বিয়া মেয়ে সহ আমার বাড়িতে চলে আসে। বর্তমানে তারা আমার বাড়িতেই বসবাস করছে।’
‘এ বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ভাবে সালিশ-দরবার করার পর কোন সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে আমার মেয়ে আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে মঙ্গলবার একটি মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, তার দুই ভাই সহ ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা এবং শুধুমাত্র পুলিশ কর্মকর্তা সাইদুর রহমানকে আসামি করে আরো একটি মামলা দায়ের করে।’
এ ব্যাপারে আম্বিয়া খাতুন বলেন, একুশ বছরের সংসার জীবনে স্বামী সাইদুরের কাছ থেকে আমি কোন সুখ-শান্তি পাইনি।
জয়পুরহাট পুলিশ লাইনের রিজার্ভ অফিসে কর্মরত আরওআই পুলিশ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার কোন ছেলে সন্তান না থাকার কারণে আমি বাধ্য হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। আমি এখনও স্ত্রী আম্বিয়া ও মেয়ে সিমিকে সঠিক ভাবে ভরণপোষণ করে আসছি। হঠাৎ কি কারণে তিনি মামলা দায়ের করলেন তা এই মুহূর্তে বুঝতে পারছি না। তবে আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যে পারিবারিকভাবে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
