খুলনায় ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পে নাম অন্তর্ভুক্তির কথা বলে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। দীঘলিয়া উপজেলার যোগীপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়েছে। গত দু’বছর ধরে তিনি এলাকার পাঁচ শতাধিক হতদরিদ্র মানুষকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া ভিজিডি কার্ড দেওয়ার কথা বলেও তিনি নিজের লোক দিয়ে এলাকার দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে মো. রেজাউল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী এমন অভিযোগ করেন। এ সময় এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে এলাকার ৪৫ জন মানুষের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ খুলনা বিভাগীয় কমিশনার বরাবর পাঠানো হয়।
অভিযোগে জানা যায়, সরকার ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার হতদরিদ্র মানুষকে এক লাখ টাকায় ঘর বানিয়ে দিচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান নিজে এবং তার লোক দিয়ে নগদ ১০ থেকে ২৫ হাজার করে টাকা আদায় করেছেন। এভাবে ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক হতদরিদ্র মানুষকে ঘরের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন চেয়ারম্যান শেখ আনিছুর রহমান। এর মধ্যে কিছুদিন আগে ১২০ জনকে ঘরের ব্যবস্থা করতেও পেরেছেন। বাকি লোকজন ঘর না পেয়ে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি ‘সরকারের ঘরে’ টাকা জমা দিয়েছেন বলে জানিয়ে দেন। অনেককেই ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান ভিজিডির তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য দরিদ্র মহিলাদের কাছ থেকে ২-৩ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। সবার নাম তালিকায় ওঠানো সম্ভব না হওয়ায় এক কার্ডের চাল দু’তিনজনকে ভাগ করে দিয়েছেন। এর প্রতিবাদ করা হলে তিনি মামলার হুমকি দিয়ে লোকজনকে তাড়িয়ে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী অভিযোগ করেন, তিনি ঘর পাওয়ার আশায় দুটি ছাগল বিক্রি করে চেয়ারম্যানকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন, কিন্তু তাকে ঘর দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে যোগীপোল ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আনিছুর রহমান জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন আমার সুনাম নষ্ট করতে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মিথ্যা কথা বলছে।
