চাহিদা না থাকায় চলতি মৌসুমে যশোর বিএডিসির বিপুল পরিমাণ আমন ধানবীজ অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। বীজ উত্তোলন করে বিপাকে পড়েছেন ডিলাররা। দীর্ঘ অনাবৃষ্টি ও বোরো ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় কৃষক আমন আবাদের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন।
বিএডিসি যশোর বীজ বিতরণ বিভাগের উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রতিবছর আমন মৌসুমে বীজ ধানের মোট চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ সরবরাহ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (বিএডিসি)।
যশোর জেলার জন্য এবার বিএডিসি আমন ধানবীজ বরাদ্দ করেছে ৬৩১ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সোমবার পর্যন্ত মাত্র ২৮৮ মেট্রিক টন বীজ ডিলাররা সংগ্রহ করেছেন। বাকি ৩৪৩ মেট্রিক টন বীজ পড়ে আছে বিএডিসির গোডাউনে। অথচ গতবছর পর্যন্ত এ সময়ে বিএডিসির বীজ নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যেত।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় এক লাখ ২৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে মাঠে মাঠে বীজতলা তৈরির কথা থাকলেও কৃষক বিলম্ব করছে। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে বোরো ধানের কাঙ্খিত দাম না পেয়ে কৃষক অনেকটা হতাশ। তারপর দীর্ঘ অনাবৃষ্টি। এ কারণে সেচ দিয়ে বীজতলা তৈরিতে আগ্রহী হচ্ছেন না তারা।
বীজ ডিলার রবিউল ইসলাম রবি জানান, প্রতি বছর এ সময় বিএডিসির বীজ সংগ্রহের জন্য চাষিরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতো। আর এবার বীজ বিক্রির আমরা কৃষকদের খুঁজে বেড়াচ্ছি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আর বীজ বিক্রি হবে না।
একই কথা বলেন সদর উপজেলার ধান বীজ ডিলার আনোয়ার পারভেজ ও মশিয়ার রহমান মিলন।
তারা বলেন, বিএডিসি থেকে ধান বীজ সংগ্রহ করা হলেও গতবারের মতো কৃষকের সাড়া পাচ্ছি না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে বৃষ্টি না হওয়া। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে কৃষক সেচ দিয়ে অতিরিক্ত খরচ করে বীজতলা তৈরি করতে চাচ্ছেন না। ফলে এবার আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু সফল তা বলা যাচ্ছে না।
সদর উপজেলার ইছালী গ্রামের হাদিউজ্জামান মিলন বলেন, “বাজারে এখনও পর্যন্ত ধানের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। এই দামে ধান বিক্রি করে সেচ দিয়ে বীজতলা তৈরি করে আমন আবাদ করলে দ্বিতীয় দফা লোকসানের মুখোমুখি পড়বো। যেকারণে বৃষ্টির অপেক্ষায় আছি। দু’একদিনের মধ্যে বৃষ্টি হলে আমন চাষের জন্য প্রস্তুত হবে বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে বিএডিসি যশোর বীজ বিতরণ বিভাগের উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, যশোরাঞ্চলের ওপর দিয়ে নিকট-অতীত যেকোনো সময়ের তুলনায় আবহাওয়া খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে চলছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষক বীজতলা তৈরী করতে পারছেন না। তাছাড়া বাজারে ধানের দাম কম থাকায় তারা ডিজেল ও বিদ্যুত খরচ মিটিয়ে যে বীজতলা তৈরি করবে সে বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছে না। এসব কারণে এখনও পর্যন্ত কৃষক কাঙ্খিত পর্যায়ে বীজ সংগ্রহ করেনি।
