পৌরবাসীর দাবির মুখে পানির বিল বৃদ্ধির অবস্থান থেকে সরে এল ফরিদপুর পৌরসভা। পৌরসভার নগর সমন্বয় কমিটির এক জরুরি সভায় বর্ধিত টাকা কিছু কমিয়ে আনা সিদ্ধান্ত হয়।
২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের বাজেটে পৌরসভার পানি ব্যবহারকারী গ্রাহকদের পানির বিল দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর কারণ হিসেবে পৌর কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেন এই খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বেশি হয়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে পানির বিল বৃদ্ধির পরপরই পৌরবাসী সোচ্চার হয়ে উঠে। এ ছাড়া দৈনিক দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সমন্বয় সভায় দেড়, দুই ও তিন ইঞ্চি পাইপ দিয়ে পানি সরবরাহের বর্ধিত মূল অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কেন না উচ্চবিত্ত ও বড় কোন প্রতিষ্ঠান সাধারণত ওই মাপের পাইপ দিয়ে পানি নিয়ে থাকেন।
সভায় হাফ ইঞ্চি পাইপের ক্ষেত্রে পানির মাসিক মূল্য ধার্য করা হয়েছে ২২৫ টাকা। আগে এ মূল্য ছিল ১৫০ টাকা। বাজেটে বাড়িয়ে করা হয়েছিল ২৭৫ টাকা।
কোয়াটার ইঞ্চি পাইপের মাসিক সংযোগ বিল করা হয়েছে ৩৫০টাকা। আগে এর বিল ছিল ২২৫ টাকা। বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৩৭৫ টাকা।
এক ইঞ্চি পাইপের ক্ষেত্রে নতুন বিল করা হয়েছে ১ হাজার ৭০০টাকা। আগে এ ক্ষেত্রে বিল ছিল ১ হাজার ১২৫ টাকা। এ বিল করা হয়েছিল ২ হাজার ২৫০ টাকা।
দেড় ইঞ্চি পাইপের ক্ষেত্রে গত সভায় বাড়িয়ে ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৭০০০, দুই ইঞ্চি পাইপের ক্ষেত্রে ৭ হাজার ৫০০ এর স্থলে বাড়িয়ে ১০ হাজার এবং তিন ইঞ্চির ক্ষেত্রে ২২ হাজার ৫০০ এর স্থলে ৩০ হাজার টাকা করা হয়। নগর সমন্বয় সভায় এ বৃদ্ধির হার অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পৌর সভার মেয়র শেখ মাহাতাব আলী বলেন, ফরিদপুর পৌরসভার সকল স্তরের ব্যক্তি বর্গের কর্মকর্তা নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে থাকে। এ কারণে পানির বর্ধিত বিল যাতে নিম্নবিত্ত ও মধ্য বিত্তদের ক্ষেত্রে বোঝা হয়ে না দাঁড়ায় এ জন্য প্রথম সারির তিনটি পাইপে পানি সরবরাহের মূল্য হ্রাস করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, পানি সরবরাহে জন্য পৌর সভার প্রতি মাসে ব্যয় হয় ৫৩ লাখ টাকা। আয় ২৪ লাখ টাকা হবার কথা থাকলেও পরিপূর্ণ আদায় হয় না। বাকি টাকা অন্য কোনখাত থেকে ভর্তুকি প্রদান করে পূরণ করতে হয়।
