কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ অপ্রতুল

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৯, ১০:১৮ পিএম

কিশোরগঞ্জে আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ও উপজেলা থেকে হাজারো মানুষ আসে চিকিৎসাসেবা নিতে। জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে এমন কোনো বিভাগ নেই যার সামনে প্রতিদিন মানুষের বিশাল ভিড় থাকে না। কিন্তু চিকিৎসা নিতে আসা এই মানুষদের প্রেসক্রিপশনে যেসব ওষুধ লেখা হয়, এর বেশির ভাগই কিনতে হয় বাইরে থেকে। ‘ওষুধ নেই, সাপ্লাই নেই’ এটি কর্মকর্তাদের নিত্যদিনের কথা।

হাসপাতালটিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের লোকজনই বেশির ভাগ ভর্তি থাকে। ভর্তি হওয়া রোগীদের স্বজনরা সরকারি ওষুধের জন্য বললে ‘সাপ্লাই নেই’ বলা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় রোগীরা হাসপাতালে আসার পরপরই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্বজনদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলা হয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বহিঃবিভাগে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ রোগীর প্রেসক্রিপশনে ৩-৪টি ওষুধ লেখা থাকলেও দু-একটি ওষুধ দেওয়া হচ্ছে হাসপাতাল থেকে। ২০-২২ জন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বেশির ভাগ ওষুধই কিনতে হবে বাইরে থেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী বলেন, স্ত্রীর সিজার করাতে গিয়ে ৩টা ছাড়া বাকি সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে। সিজার করার আগে ওষুধের একটা লিস্ট ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে টিক চিহ্ন দেওয়া ওষুধ, ইনজেকশন, স্যালাইন বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে ডাক্তাররা রোগী দেখার পর নার্সরা সিøপ দিয়ে যান ওষুধ কিনে আনতে।

প্যাথলজি বিভাগের সামনে কী কী পরীক্ষা করা হয় তার কোনো তালিকাও চোখে পড়েনি। প্যাথলজি বিভাগে কর্মরত শ্যামলী রানী দাস বলেন, তালিকা ছিল, মনে হয় কেউ ছিঁড়ে ফেলেছে। আরবিএস, এইচবিএসএজি, ভিডিআরএল পরীক্ষা হয় কি নাÑএমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, স্টোর রুমে আগুন লাগার পর এই সব পরীক্ষা করার প্রায় সব রি-এজেন্ট আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে ওষুধ নেওয়া সালাউদ্দিন, শ্রাবন্তী রায়, জব্বার আলী, পান্না আক্তার, মৌসুমী, সেলিম মিয়া, রতন ভৌমিক, শিখা আক্তারসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কম দামের ওষুধগুলোই হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়। দামি ওষুধ বাইরে থেকে কিনে নিতে হয়।হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট শফিকুর রহমান জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সব ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয় না।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সুলতানা রাজিয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেসব অভিযোগ উঠেছে বা অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছি।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত