দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছে পাকিস্তান। রবিবার, ম্যাচের ফলাফল নিয়ে না ভেবে শঙ্কাহীনচিত্তে খেলায় মনোযোগী হয়েছে। আর এ কারণে খেলোয়াড়রা তাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পেরেছে।
গত সপ্তাহটা ছিল দলের জন্য খুব বিভীষিকাময়। তীব্র সমালোচনা সইতে হয়েছে। সেখান থেকে বের হয়ে এসে দুর্দান্তপারফরম করা ছিল স্বস্তিদায়ক। (ভারতের কাছে) ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বাজেভাবে হারার পর এমন একটা জয় দলের জন্য খুব দরকার ছিল।
নতুনের কেতন ওড়ানো হারিস সোহেল প্রোটিয়াদের বিপক্ষে অসাধারণ খেলেছে। অন্যরা রান পেয়েছে বটে তবে হারিসের ইনিংস কেড়ে নিয়েছে সব আলো। তার ৫৯ বলে করা ৮৯ দু’দলের মাঝে পার্থক্য গড়ে দেয়। পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে এমন একজনকে খুব প্রয়োজন ছিল, যে রানের গতি বাড়িয়ে দিতে পারে। আমি যে হারিসকে চিনতাম তার সম্পূর্ণ বিপরীত একজনকে যেন দেখলাম। সাধারণত, হারিস রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলে। তবে সে টেকনিক্যালি সাউন্ড একজন ব্যাটসম্যান। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তার ওপর যেন প্রেত ভর করেছে। সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে তার চরিত্রের বিপরীত ক্রিকেট খেলেছে।
আমার দলে হারিসকে চার নম্বরে খেলাতাম। কারণ তাকে যত বেশি সময় দেওয়া যাবে সে তত দারুণভাবে ইনিংস গড়ে তুলবে। দলের মাঝে সে আর বাবর একে অন্যের পরিপূরক। তাদের দুজনের সেঞ্চুরি করার অভ্যাস রয়েছে। আবার একই সঙ্গে তারা রানরেট বাড়াতে পারে। আমার চোখে, হারিস ভবিষ্যতের বড় তারকা হতে চলেছে।
আশার কথা হচ্ছে আমরা পুরনো বিধ্বংসী আমিরকে ফিরে পেয়েছি। ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে তার সুইং আবার ফিরে এসেছে। অতিরিক্ত সুইং পাচ্ছে এমন নয়। তবে তার শক্তির জায়গা লাইনে দারুণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারায় সে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। দলের প্রয়োজনে নিয়মিত সে উইকেট পাচ্ছে। আর এটাই তাকে আরও সাহসী করে তুলছে, নিজেকে ফিরে পেতে সাহায্য করছে।
যখনই পাকিস্তান শুরুতে উইকেট নিচ্ছে তখনই ওয়াহাবসহ বাকি বোলাররা প্রতিপক্ষকে চেপে ধরছে। পুরনো বলে রিভার্স সুইং পেতে
থাকলে ওয়াহাব তার চেনারূপে ফিরে যাচ্ছে। লর্ডসে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বোলিং ইউনিট এক হয়ে আক্রমণ করেছে। মাঝের ওভারগুলোতে শাদাব আর ইমাদ খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে আর উইকেট তুলে নিয়েছে। সেমিফাইনালে খেলার ভাগ্য এখনো সুতোয় ঝুলে আছে। তবে আমি চাই পাকিস্তান সামনের ম্যাচগুলোতে একই ধরনের ক্রিকেট খেলুক। পরবর্তী খেলার আগে সময় কম। চাই পিচের সুবিধা নেওয়ার প্রয়োজন না হলে তারা যাতে দলে কোনো পরিবর্তন না আনে। যদি পাকিস্তানিরা স্বাধীনভাবে ক্রিকেট খেলতে থাকে, তাহলে কেউ জানে না কী ঘটতে চলেছে।
বার্মিংহ্যামে যাওয়ার আগে পাকিস্তান নিশ্চয়ই ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে চোখ রাখবে। এই ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অজিরা যদি ইংল্যান্ডদের হারায়। পাকিস্তানিরা চাইছে যাতে অজিরা জেতে। কারণ পাকিস্তানের সম্ভাবনা বেঁচে থাকবে তাতে। বিকল্প নেই।
* আইসিসি ওয়েবসাইট থেকে
