এরশাদের অবস্থার উন্নতি, খুলে দেওয়া হয়েছে অক্সিজেন মাস্ক

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৯, ০১:১৮ পিএম

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি রয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতাল থেকে এ তথ্য জানান জাপার যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মো. ইয়াসির ও ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তারা জানান, এরশাদের শারীরিক অবস্থার আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তারা নিশ্চিত করেছেন এরশাদের অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলা হয়েছে‌। তার রক্তচাপও স্বাভাবিক।

এরশাদ স্বাভাবিকভাবে চোখ খুলছেন। এমনকি চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসায় সাড়া দিচ্ছেন। শারীরিক অবস্থার আরেকটু উন্নতি হলে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে সাধারণ বেডে স্থানান্তর করা হবে বলে জানান তারা।

এ ছাড়া ব্লাড কালচার টেস্টসহ বেশ কিছু টেস্ট দিয়েছে চিকিৎসক। এসব টেস্টের ফলাফল বৃহস্পতিবার বিকেল ও শুক্রবারের মধ্যে চিকিৎসকের হাতে  আসবে।

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী আরও বলেন, “চিকিৎসকেরা শঙ্কামুক্ত বলেই জানিয়েছেন। স্যারকে আপাতত ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুমিয়ে রেখেছেন চিকিৎসকেরা।”

এ দিকে এক বিবৃতিতে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের জানান, চব্বিশ ঘণ্টায় এরশাদের শারীরিক অবস্থার পঁচিশ শতাংশ উন্নতি হয়েছে। তবে আরও জানান, তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। সংক্রমণ যেন না বাড়ে সে জন্য চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এরশাদের পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।

বুধবার সকালে এরশাদ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে সিএমএইচে যান। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি সেখানে ভর্তি হন।

বুধবার রাতে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিয়মিত চেকআপের জন্য তিনি (এরশাদ) প্রতিদিন সকালে এবং বিকেলে সিএমএইচে যান। আজও নিয়মিত চেকআপের জন্য গেলে ডাক্তারের পরামর্শে ভর্তি হয়েছেন সেখানে। তবে এখনই তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে গত বছরের ২০ নভেম্বর ইমানুয়েল কনভেনশন সেন্টারে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সামনে সবশেষ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন এরশাদ। এরপর অসুস্থতার কারণে আর কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি তিনি। ৬ ডিসেম্বর গাড়িতে করে অফিসের সামনে এলেও সেখানে বসে কথা বলেই চলে যান। পরে ১০ ডিসেম্বর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান এরশাদ।

ভোটের মাত্র ৩ দিন আগে ২৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরলেও নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে যোগ দেননি। এমনকি নিজের ভোটও দিতে যেতে পারেননি সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। ভোটের পর শপথ নেন আলাদা সময়ে গিয়ে। সেদিনও স্পিকারের কক্ষে হাজির হয়েছিলেন হুইলচেয়ারে বসে। গত ২০ জানুয়ারি ফের সিঙ্গাপুরে যান চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে ফেরেন ৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর থেকেই কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায়নি। সংসদ অধিবেশনে মাত্র এক দিনের জন্য হাজির হয়েছিলেন তা-ও হুইলচেয়ারে ভর করেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত