বৃহস্পতিবার ভোরে সীতাকুণ্ডের আমিরাবাদে র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ইকবাল হোসেন রানাকে (২২) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
নিহতের বড় ভাই ইসমাইল হোসেন রাজু দেশ রূপান্তরকে জানান, রানাকে ঢাকার উত্তরখান থানার মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় সাদা পোশাকে তিন ব্যক্তি একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
তিনি জানান, এ সময় সঙ্গে থাকা রানার খালাতো ভাই মনিরকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ও টাকা বুঝিয়ে দিয়ে তাকে নিয়ে চলে যায় সাদা পোশাকধারীরা। রাত ১১টার দিকে রানার খালু উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা তিনজনের নামে জিডি করে।
ইসমাইল হোসেন রাজু আরো বলেন, উত্তরখান থানার ওসি রানার খালুর মোবাইল দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে মূল ঘটনা জানার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারি একটি মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে সীতাকুণ্ড থানায় রানার নামে মামলা হয়। এর কিছুদিন পর মেয়ের দুলাভাই নুর উদ্দিন ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা তুলে নেওয়া এবং ওই মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
টাকা না দেওয়ায় র্যাবকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ধর্ষণের ঘটনা সাজানো বলেও দাবি তার।
তিনি জানান, অপরদিকে ২৫ ফেব্রুয়ারি তার নামেও সেই মেয়েটিকে অপহরণ চেষ্টার একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। তারপর থেকে দুই ভাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল মেয়ের দুলাভাই ও তার বন্ধু মোশারফ।
বৃহস্পতিবার ভোরে ধর্ষণের আসামি আটক করতে গেলে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিজ এলাকায় ইকবাল হোসেন রানা নিহত হয় বলে দাবি করে র্যাব-৭। এ সময় ১টি দেশি অস্ত্র ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয় বলে জানানো হয়।
