চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচরে দেখা দিয়েছে মেঘনা নদীর ভাঙন। ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে মানুষের বসতঘর, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এই বর্ষায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ার শঙ্কায় রয়েছে স্থানীয়রা। ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষদের কাটছে নিদ্রাহীন রাত।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নে ফেরিঘাট থেকে আখন্দেরহাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়রা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাঁশ ও বালির বস্তা ফেলে অস্থায়ী বাঁধ দিলেও কাজে আসছে না এই প্রচেষ্টা। পানির স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে নদীর পাড়। এই স্থানে স্থায়ী কোনো বাঁধ না থাকায় হুমকিতে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ হাজারো মানুষের বসতভিটা।

স্থানীয়রা জানায়, ইতোমধ্যে এই এলাকায় নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারিয়েছে হালদার বাড়ি, সরকার বাড়ি, বেপারী বাড়ি, আখন্দ বাড়ি, দেওয়ান বাড়িসহ আরও অনেক পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে নদী ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা না নিলে এই ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চাঁদপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, চাঁদপুর সদর উপজেলা থেকে হাইমচর উপজেলা পর্যন্ত ৩শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় সাড়ে ১৯ কিলোমিটার এলাকা নদী প্রতিরক্ষা কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু হানারচর ইউনিয়নের এই পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন রোধে এখনো পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়নি। যার ফলে মেঘনা নদী গ্রাস করে নিচ্ছে মানুষের ঘর-বাড়িসহ ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা।
হানারচর ইউনিয়নের মধ্য গবিন্দিয়া গ্রামের মো. মোস্তাফা, আবুল বসর বলেন, “বর্ষার শুরুতেই নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরা এখন তীব্র আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছি। নদীতে ঘর বাড়ি ভেঙে গেলে আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না।
একাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. ওমর ফারুক বলেন, “নদী ভাঙন রোধে আমরা এলাকাবাসী মিলে বাঁশ ও বালির বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে বাঁধ দিয়েছি। নদীর ঢেউ ও স্রোতের কারণে তা ভেঙে যাওয়ার পথে। এখনই ব্যবস্থা না নিয়ে এই বর্ষা মৌসুমেই আমাদের বসতঘর, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদী গ্রাস করে নেবে। তাহলে আমাদের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই থাকবে না।

হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার রাঢ়ী বলেন, “নদী ভাঙনের বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম দেওয়ান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমাসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি।
ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এই ইউনিয়ন মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
চাঁদপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, “হানারচর ইউনিয়নের পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় এখনো স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়নি। স্থায়ী বাঁধ দেওয়া জন্যে প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে। ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষামূলক কাজ করা হবে বলে জানান তিনি।
